
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 30 August 2024 08:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মামলার বোঝা কমাতে বিচারপতিদের শূন্য আসন সব পূরণ করা হয়েছে। শুনানি এবং আদালতের যাবতীয় কাজে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে কয়েক গুণ। ভার্চুয়াল মাধ্যনে শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন আইনজীবী ও মক্কেলরা। তারপরও সুপ্রিম কোর্টে বকেয়া মামলার সংখ্যা নিয়ে সব মহলই বিস্মিত।
শীর্ষ আদালত সুত্রের খবর, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নিষ্পত্তি না হওয়া মামলার সংখ্যা ছিল ৮৩ হাজার। অতীতে কখনও দেশের শীর্ষ আদালতে এত মামলা বকেয়া থাকেনি। বেশিরভাগ সময় তা ৫০ হাজারে নিচে থেকেছে। কোনও কোনও সময় তা ৬০-৬৫ হাজার হলেও নানা পদক্ষেপ করে মামলার বোঝা কমানো হয়েছে। দু বছর আগের বকেয়ার সংখ্যা ৭৯ হাজার হয়ে গিয়েছিল।
যদিও সেই সব দিনে বিচারপতির সংখ্যা ছিল কম এবং শীর্ষ আদালতের কাজ হত মূলত কাগজে-কলমে, যার প্রায় পুরোটাই বিগত বছর দশ হল কম্পিউটার এবং তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে হচ্ছে। বিচারপতিরা ল্যাপটপে মামলার নথিপত্র দেখছেন। সব কাজ অনলাইনে হচ্ছে।
শীর্ষ আদালত সুত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে ৩৮ হাজার। তার সঙ্গে বিগত বছরের মামলা যুক্ত হয়ে মোট বকেয়া মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৩ হাজার।
শীর্ষ আদালত সুত্রে জানা গিয়েছে, গত দু-তিন বছর যাবৎ বকেয়া মামলার সংখ্যা একটু একটু করে বাড়ছিল। দু বছর আগে বর্তমান প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের সব স্তরের আদালতেই মামলার বোঝা কমাতে নানা পদক্ষেপ করেন। সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতিদের ল্যাপটপ ব্যবহার তিনিই বাধ্যতামূলক করেন। বর্তমানে শীর্ষ আদালতে বিচারপতির পদ শূন্য নেই। তারপরও ৮৩ হাজার বকেয়া মামলা সব মহলকেই ভাবিয়ে তুলেছে।
সরকারিভাবে কারণ নিয়ে আদালত মুখ না খুললেও বিচার মহলের খবর, এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী বিচারালয় বনাম সরকারের বিরোধী। গত চার-পাঁচ বছর ধরে বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়ামের সঙ্গে আইনমন্ত্রকের বিবাদে মাসের পর মাস বিচারপতি নিয়োগ থমকে ছিল। কলেজিয়ামের সুপারিশ মানতে চায়নি আইনমন্ত্রক। তা নিয়ে আগের আইনমন্ত্রী কীরেন রিজিজুর সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বিবাদ অতীতের সব নজির ছাপিয়ে যায়। প্রকাশ্যে বাকযুদ্ধে জড়ান রিজিজু ও প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়। পরিস্থিতি আঁচ করে রিজিজুকে আইন মন্ত্রক থেকে সরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। অনেকেই মনে করছেন, সেই সময় বিচারপতির পদ মাসের পর মাস ফাঁকা থাকার কারণেই ধীরে ধীরে মামলার বোঝা বৃদ্ধি পেয়ে ৮৩ হাজার হয়েছে।