২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিসের ভিত্তিতে উপ্পলকে গ্রেফতার করেছিল দুবাই কর্তৃপক্ষ। যদিও ৪৫ দিন পর জামিনে মুক্তি পান তিনি, কিন্তু তখনও তাঁর উপর নজরদারি ছিল।

মূল অভিযুক্ত রবি উপ্পল
শেষ আপডেট: 4 November 2025 15:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৬,০০০ কোটি টাকার মহাদেব অনলাইন বেটিং অ্যাপ (Mahadev Online Betting App) কাণ্ডে ফের বড় ধাক্কা ভারতের তদন্তকারী সংস্থার। মূল দুই অভিযুক্তের অন্যতম রবি উপ্পলকে (Ravi Uppal) দুবাই পুলিশ গত বছর গ্রেফতার (Arrest) করলেও, এখন তিনি ‘নিখোঁজ’ (Missing)। সূত্রের খবর, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে তাঁকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়াও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিসের ভিত্তিতে উপ্পলকে গ্রেফতার করেছিল দুবাই কর্তৃপক্ষ। যদিও ৪৫ দিন পর জামিনে মুক্তি পান তিনি, কিন্তু তখনও তাঁর উপর নজরদারি ছিল। কিন্তু নভেম্বর ২০২৫-এ এসে দেখা যাচ্ছে রবি উপ্পল আর দুবাইতে নেই। সূত্র বলছে, তিনি দেশ ছেড়ে কোনও অজানা স্থানে চলে গিয়েছেন।
ভারতের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়েই সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমিরশাহি সরকারকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাতের তরফে জানানো হয়েছে, নথিপত্র সময়মতো না পাওয়ায় আপাতত প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ‘হোল্ডে’ রাখা হয়েছে।
এই ঘটনায় বড় ধাক্কা খেল ইডি। কারণ, রবি উপ্পলের সঙ্গী সৌরভ চন্দ্রকার এখনও দুবাই পুলিশের হেফাজতে থাকলেও, তাঁকে এখনও ভারতে আনা যায়নি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গ্রেফতার হন চন্দ্রকার, বর্তমানে তিনি গৃহবন্দি।
তদন্তে জানা গিয়েছে, রবি উপ্পল ও সৌরভ চন্দ্রকার দু’জনেই দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর নাগরিকত্ব নিয়েছিলেন। সূত্র বলছে, তাঁরা সেখানকার রাজধানী পোর্ট ভিলায় সম্পত্তিও কিনেছেন এবং নিজেদের বেটিং নেটওয়ার্ককে আন্তর্জাতিক পরিসরে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ভারতের সঙ্গে ভানুয়াতুর কোনও প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। ফলে তাঁকে ফেরত আনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
২০১৮ সালে শুরু হয় মহাদেব অনলাইন বেটিং অ্যাপ। ইডির দাবি, অ্যাপটির দৈনিক মুনাফা ছিল প্রায় ২০০ কোটি টাকা। সারা দেশে ৩,২০০টি প্যানেলের মাধ্যমে পরিচালিত হত এই চক্র। প্রতিদিন প্রায় ২৪০ কোটি টাকার বাজি ধরা হত।
এই অ্যাপের সঙ্গে জড়িত ছিল প্রায় ৩,৫০০ জন কর্মী— যার মধ্যে কিছু কল সেন্টার চলত ছত্তীসগড়, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে।
তদন্তে উঠে এসেছে, উপ্পল ও চন্দ্রকারের সঙ্গে রাজনীতি, নেতা-মন্ত্রী ও পুলিশের একাংশের যোগ ছিল। নিয়মিত ঘুষ ও ‘প্রোটেকশন মানি’ দেওয়া হত যাতে তদন্তকারী সংস্থাগুলি বিষয়টি নিয়ে নাক গলাতে না পারে।
এই মামলায় ছত্তীসগড়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা ভূপেশ বঘেলের নামও জড়িয়ে যায়। ইডির দাবি, তাঁর ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে ৫০৮ কোটি টাকা বেটিং চক্র থেকে গিয়েছিল বঘেলের কাছে। যদিও তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তিনি এর সঙ্গে কোনওভাবেই জড়িত নন।