
শেষ আপডেট: 4 February 2023 08:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা মডেলে সিপিএম-কংগ্রেসের জোট (CPM Congress alliance) হয়েছে ত্রিপুরায় (Tripura)। যাকে দুই দল বলছে আসন সমঝোতা। কিন্তু ত্রিপুরায় সিপিএম-কংগ্রেস দু'দলের নেতারাই শঙ্কায়, ভোটে বাংলার ছবি ফিরবে না তো?
বাংলায় দেখা গিয়েছিল, ষোলোর ভোটে সূর্যকান্ত মিশ্রকে মানস ভুঁইয়া জড়িয়ে ধরলেও ভোট বাক্সে তার প্রতিফলন ঘটেনি সর্বত্র। সেই ভোট হয়ে যাওয়ার পর বাম-কংগ্রেসের কোনও বোঝাপড়া ছিল না। রাস্তায় ছিল না যৌথ আন্দোলনও। শুধু আবদুল মান্নান আর সুজন চক্রবর্তী একসঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলন করতেন। সেসব পেরিয়ে একুশের ভোটের আগে হওয়া সমঝোতা আবার গোঁত্তা খেয়ে পড়েছিল।
ভোটের হিসেবেও দেখা গিয়েছিল, বামেদের ভোট কংগ্রেসের দিকে গেলেও কংগ্রেসের ভোট সেভাবে সিপিএমের দিকে আসেনি। ত্রিপুরায় বেশ কিছু এলাকায় সিপিএম-কংগ্রেস বেশ কিছু জায়গায় একসঙ্গে মিছিল করছে। কাস্তে হাতুড়ি তারার পাশে উড়ছে হাত আঁকা পতাকা। কিন্তু ভোটে কী হবে?
বাংলায় কংগ্রেস অনেকদিনই দুর্বল। বামফ্রন্ট সরকারের শেষ এক যুগ সিপিএমের মূল প্রতিপক্ষ ছিল তৃণমূল। ফলে সিপিএম কংগ্রেসের পুরনো লোকেদের মধ্যে যে মনোভাব ছিল নতুনদের মধ্যে তা অনেকাংশেই ছিল না। কারণ তাঁরা বাংলায় শাসক কংগ্রেসকে দেখেনি। আবার কংগ্রেসিদের বেশিরভাগই ক্ষমতায় থাকা সিপিএমকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন। অনেকে বলেন, সেটাও ভোট ট্রান্সফার না হওয়ার একটা কারণ।
ত্রিপুরায় এই সেদিনও ত্রিপুরায় মূল প্রতিপক্ষ ছিল সিপিএম ও কংগ্রেস। একথা ঠিক ত্রিপুরায় বামফ্রন্ট সরকার হঠাতে কংগ্রেসের বেশিরভাগ নেতা বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁদের কেউ কেউ মন্ত্রীও হয়েছেন। ফলে কংগ্রেস দুর্বল হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের অনেকেরই প্রশ্ন, বিজেপির রাজনীতি সময়ের দাবিতে সিপিএম-কংগ্রেসকে কাছাকাছি এনে দিলেও, ভোট বাক্সে প্রতিফলিত হবে তো?
আগরতলার কুঞ্জবন এলাকার এক দোকান মালিক বলেন, "আমি চিরকাল কংগ্রেসের সমর্থক। আমার কেন্দ্রে কংগ্রেসের প্রার্থী সুদীপ রায় বর্মন। আমার কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু আমার ভাই-সহ গোটা পরিবার বিলোনিয়ায় থাকে। তাঁরা সিপিএম প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন কিনা বলা মুশকিল।"
তিনি এও বলেন, "আমি নৈতিকভাবে মনে করি বিজেপির এই সরকারটাকে হঠানো উচিত। কিন্তু আমার কেন্দ্রে যদি সিপিএমের প্রার্থী থাকত কী করতাম বলতে পারব না। হয়তো নোটায় দিয়ে আসতাম।"
এই দোকান মালিকেরই এক ছেলের আবার ট্রান্সপোর্টের ব্যবসা। তিনি বলেন, "ব্যবসার কারণে সিপিএমের সময় সিটু করতাম। গত পাঁচ বছর বিএমএস করেছি। কিন্তু এটা বলতে পারি, গত পাঁচ বছরে ত্রিপুরায় পরিবহণ ব্যবসায়ীদের লালবাতি জ্বলে গেছে।"
বিজেপির বক্তব্য, সিপিএম ও কংগ্রেস দু’টি দলই তাদের সমর্থকদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ভোটবাক্সেই তাঁরা জবাব দেবেন।
জোটের ফলে বুথে বুথে ভোট ট্রান্সফার কতটা হল তা ফল ঘোষণা হলে স্পষ্ট হবে। কিন্তু তার আগে পর্যবেক্ষকদের অনেকে বলছেন, সিপিএমকে সরানোর অভিপ্রায় নিয়ে যদি কংগ্রেসের ভোট বিজেপিতে যেতে পারে তাহলে এখন বিজেপির বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া প্রতিষ্ঠান বিরোধিতায় কেন বাম-কংগ্রেসের ভোট ট্রান্সফার হবে না? আবার অনেকের মতে, ত্রিপুরায় সিপিএমের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা ছিল ২৩ বছরের। কিন্তু বিজেপি মাত্র পাঁচ বছর সরকার চালিয়েছে। তাছাড়া সক্রিয় কর্মীরা মিছিল করলেও দু’দলের সমর্থকরা কী করবেন তা বলা মুশকিল।
ত্রিপুরায় বিজেপির চাপ জনজাতি এলাকা নিয়ে, আইপিএফটির ভোটগুলো কোথায় যাবে?