
গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 11 April 2025 22:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসএসসি-র ২০১৬ সালের প্যানেল থেকে (SSC 2016 Deprived Teachers) যোগ্য ও অযোগ্যদের আলাদা করা যাচ্ছে না। সেই কারণেই প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর আস্ত প্যানেল বাতিল করা হল বলে গত ৩ এপ্রিল জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার চাকরিহারাদের সঙ্গে আড়াই ঘণ্টা বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বেশ জোরের সঙ্গেই জানালেন, “২২ লক্ষের মিরর ইমেজই রয়েছে। আমাদের তা প্রকাশ করতে কোনও আপত্তি নেই”।
একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী এও বলেন, “তবে যেহেতু বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন তাই আইনি পরামর্শ ছাড়া আমরা কোনও কাজই করতে পারব না”।
প্রশ্ন হল, ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ওএমআর শিটের মিরর ইমেজ যদি থেকেই থাকে, তাহলে কেন যোগ্য ও অযোগ্য আলাদা করে বাছাই করা যায়নি? কেন কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছিল যে, চাল ও কাঁকর আলাদা করা যাচ্ছে না?
এদিনের বৈঠকে চাকরিহারারা প্রার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে দাবি করেন, অবিলম্বে যোগ্য ও অযোগ্যদের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করুক এসএসসি। শিক্ষামন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দেড় থেকে দু'সপ্তাহের মধ্যে সেই তালিকা ওয়েবসাইটে তুলে দেওয়া হবে। তবে তার আগে আইনি পরামর্শ নেওয়া হবে।
প্রশ্ন উঠছে, যোগ্য ও অযোগ্যদের তালিকা যদি থাকে তাহলে তা আগে আদালতে দেওয়া হল না কেন? শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "এমন তথ্য ঠিক নয়। এটা বিরোধী দলের তৈরি করা ন্যারেটিভ। আপনারা তাতে পা দেবেন না। এসএসসির হার্ডডিস্ক হারিয়ে গেছে। তাই সিবিআইয়ের তরফ থেকে যে তালিকা দেওয়া হয়েছিল, তা অতীতে তিনবার সুপ্রিমকোর্টে এসএসসি জমাও দিয়েছিল। আইনি পরামর্শ নিয়ে ওই তালিকা প্রকাশ করা হবে।"
এসএসসির এই হার্ডডিস্ক হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বর্তমান চেয়ারম্যানের কোনও দায় নেই বলেও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, উনি ওই সময় দায়িত্বে ছিলেন না।
এসএসসি এবং রাজ্য পৃথক পৃথকভাবে আদালতে রিভিউ পিটিশনের আবেদন করবে বলেও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যে তথ্যের ভিত্তিতে আদালত ইতিমধ্যে রায় দিয়ে দিয়েছে, পুনরায় সেই তথ্য দাখিল করে রিভিউ পিটিশনে কী কোনও সুরাহা হতে পারে? এ ব্যাপারে সরাসরি কোনও জবাব দেননি শিক্ষামন্ত্রী। তবে যোগ্যদের চাকরি ফেরাতে সরকার সব ধরনের আইনি সহযোগিতা করবে জানিয়েছেন ব্রাত্য।
আগামী ১৭ এপ্রিল শীর্ষ আদালতে শুনানি রয়েছে। ওই দিন বিরোধীরা যাতে আদালতে রাজ্যের বিরোধিতা না করেন সুকৌশলে সেই বার্তাও এদিন দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, "১৭ তারিখ কোর্টে শুনানি আছে। সেদিন কারা পর্ষদের বিরুদ্ধে লড়বে, সেটা সকলেই দেখতে পাবেন। তাতেই প্রমাণিত হবে কারা যোগ্যদের তালিকাও বাতিল করতে চাইছেন।"
'২৬ সালে জয় নিশ্চিত হয়ে আছে' দাবি করে বিরোধীদের উদ্দেশে ব্রাত্য এও বলেন, "ভাত দেওয়ার নাম নেই কিল মারার গোঁসাই হবেন না, আপনারা আপনাদের রাজনীতি করুন! শেষ মুহূর্তে আমরা অক্সিজেন দিয়ে খড়কুটোর মতো ওদের হৃত মর্যাদা ফিরে পাওয়ানোর চেষ্টা করছি, তখন ওদের বিভ্রান্ত করে এই চেষ্টাকে আটকাবেন না।"