
ব্রাত্য বসু
শেষ আপডেট: 11 April 2025 20:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৯ বছর আগে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) পরীক্ষায় কী হয়েছিল, তা নিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যানের কোনও দায় নেই বলে পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)।
এসএসসির ২০১৬ (SSC 2016) সালের নিয়োগে জালিয়াতি হয়েছে বলে জানিয়ে গোটা প্যানেল বাতিল করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তার পর এদিন চাকরিহারা শিক্ষকদের একাংশ প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন স্কুল সার্ভিস কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার ও শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু।
বৈঠকের পর চাকরিহারা শিক্ষকদের প্রতিনিধিরা যেমন সাংবাদিক বৈঠক করেন। তেমনই সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তর দেন শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে স্কুল সার্ভিস কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার কোনও প্রশ্নের জবাব দেননি। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এসএসসি কি হার্ড ডিস্ক হারিয়ে ফেলেছে? তাই কি সিবিআইয়ের কাছ থেকে নিতে হচ্ছে? চেয়ারম্যান বলেন, এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করব না। পরক্ষণেই পাশে দাঁড়ানো শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, ২০১৬ সালে স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় কী হয়েছিল তা নিয়ে সিদ্ধার্থ মজুমদার দায়বদ্ধ নন। উনি ২০২২ সালে এসেছেন। উনি বলবেন কী করে?
ব্রাত্য বসু এভাবে বিষয়টি দেখাতে চাইলেও অনেকেরই প্রশ্ন যে, ব্যক্তি সিদ্ধার্থ মজুমদারের দায়বদ্ধতার কথা কেউ বলছে না। কিন্তু ২০১৬ সালে স্কুল সার্ভিস পরীক্ষায় কোনও অনিয়ম হয়েছে কিনা, হার্ড ডিস্ক খোয়া গেছে কিনা, ওএমআর শিটের মিরর ইমেজ রয়েছে তা বর্তমান এসএসসি চেয়ারম্যান বলতেই পারেন। কারণ তিনি এখন ওই স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ প্রশাসক।
এদিনের বৈঠকে চাকরিহারা শিক্ষকদের মূল দাবি বা প্রশ্ন ছিল তিনটি। এক, যোগ্য ও অযোগ্যদের পৃথক তালিকা রয়েছে কিনা। তা এসএসসি প্রকাশ করবে কবে? দুই, ওএমআর শিটের মিরর ইমেজ রয়েছে কিনা। তা প্রকাশ করতে পারবে কিনা এসএসসি। এবং তিন, এপ্রিল মাসের বেতন চাকরিহারারা পাবেন কিনা!
প্রথম দুটি প্রশ্নের জবাবেই ব্রাত্য বসু ইতিবাচক জবাব দেন। তিনি বলেন, সিবিআই যে যোগ্য-অযোগ্যর তালিকা তৈরি করে রেখেছে তা প্রকাশ করা সম্ভব। মিরর ইমেজও প্রকাশ করা সম্ভব। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি এও জানিয়ে দেন, যেহেতু এ বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ রয়েছে তাই আইনি পরামর্শ নিয়ে যা করার তা করা হবে।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, আসলে ব্রাত্য বোঝাতে চেয়েছেন যে সরকার শীর্ষ আদালতে রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছে। সেই মামলা লড়ার জন্য সরকার সবরকম প্রস্তুতি নিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী নির্দেশ না দেখে সরকার কিছুই করতে পারবে না। এমনকি এপ্রিলের বেতনের ব্যাপারেও শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। সুপ্রিম কোর্টের একটা নির্দেশ রয়েছে। সরকার আইনি পরামর্শ নিচ্ছে।