দ্য ওয়াল ব্যুরো: যে কোনও কাজেই বাড়ির পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি নিতে হবে, একা কোথাও যেতে পারবে না, অনাত্মীয় পুরুষের সঙ্গে কথা বলতে পারবে না, মেলামেশা তো দূরের কথা। রাস্তায় বেরোলে মুখ ও মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢাকা থাকতে হবে। হালে অবশ্য গাড়ি চালানোর অনুমতি পাওয়া গেছে। হাজার রকমের রক্ষণশীল ইসলামি বিধিনিষেধের বেড়াজালে হাঁফিয়ে ওঠা সৌদি মেয়েদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আর বেড়ে চলেছে কোনও না কোনও উপায়ে দেশ ছেড়ে পালাতে চাওয়া মেয়েদের সংখ্যাও।
এ রকমই সৌদি থেকে পালানো দুই তরুণী প্রতিবেশী দেশ জর্জিয়ার পাসপোর্ট হাতে পেয়েছেন। জর্জিয়া সরকার ও সেখানকার মানবাধিকার সংগঠনের সাহায্যে দুই বোন এ বার পাড়ি দিচ্ছেন তৃতীয় কোনও নিরাপদ দেশে। কোন দেশ তা অবশ্য জানানো হয়নি।
https://twitter.com/GeorgiaSisters2/status/1125672887241723906
গত মাসেই সৌদি আরব থেকে জর্জিয়ায় পালিয়ে গেছিলেন ২৮ বছরের মাহা আলসুবি ও তাঁর ২৫ বছরের বোন ওয়াফা আলসুবি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের অসহায়তার কথা পোস্ট করে দুই বোন জানান, তাঁরা জর্জিয়ায় পালিয়ে এলেও সেখানে তাঁরা নিরাপদ নন। তাঁদের বাবা ও ভাইয়েরা হন্যে হয়ে তাঁদের খুঁজছে। যদি তাঁদের দুই বোনকে ফের সৌদিতে ফিরে যেতে হয়, তাঁদের হত্যা করা হবে। জর্জিয়ার পাসপোর্ট হাতে পেয়ে দুই বোন টুইটারে ভিডিওয় জানিয়েছেন, তাঁরা নতুন ভাবে বাঁচতে, নতুন জীবন শুরু করতে অন্য দেশে পাড়ি দিচ্ছেন। নিরাপদ কোনও দেশে আশ্রয় চেয়ে মাহা ও ওয়াফা চেঞ্জ. ওআরজি-তে যে আবেদন করেছিলেন, তাতে ৪০ হাজার মানুষ স্বাক্ষর করেন।
মার্চ মাসেই সৌদি থেকে পালান আরও দুই বোন ২০ ও ১৮ বছরের দুই তরুপণী। তাঁরা হংকংয়ে প্রথমে আশ্রয় নেন। তাঁদেরও বক্তব্য ছিল, সৌদি আরবে তাঁদের পরিবার তাঁদের উপর অত্যাচার করে। হংকং থেকে মানবাধিকার রক্ষায় তাঁদের অন্য একটি দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। গত বছরের শেষের দিকে সৌদি আরব থেকে পালান রাহাফ আল কুনুন। ১৮ বছরের ওই তরুণীর পালানোর ঘটনা রীতিমতো শোরগোল ফেলে দেয় সংবাদ মাধ্যমে। পরে তিনি কানাডায় আশ্রয় পান। তাঁরও বক্তব্য ছিল, বাড়ির পুরুষেরা অত্যাচারী।