
শেষ আপডেট: 17 March 2024 16:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: রবিবারের ফের উত্তপ্ত সন্দেশখালি। রামপুর বাজারে টায়ারে আগুন লাগিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন গ্রামবাসীরা।
তাঁদের অভিযোগ, সন্দেশখালি রামপুর ২ নম্বরে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হাজি সিদ্দিক মোল্লা, তৃণমূল নেতা হাশেম মোল্লা, জুলফিকার মোল্লা সহ বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতা এলাকার মানুষদের জমি জোর-জবরদস্তি করে দখল করে রেখেছে। বছর তিনেক ধরে এলাকার মানুষ এদের হাতে অত্যাচারিত হয়েছে। এই তিনজনের বিরুদ্ধে জমি দখল ছাড়াও শ্লীলতাহানি, মারধরের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এই তিন তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। বাসিন্দাদের দাবি, এই তিনজনই শেখ শাহজাহানের অনুগামী। শাহজাহানের প্রশয়ে এলাকায় সন্ত্রাস চালিয়ে বেড়াত।
এই গ্রামের বাসিন্দা তৃণমূল কর্মী মফিজুল রহমান জানিয়েছেন, বহু বছর ধরে তাঁরা তৃণমূলের সঙ্গে রয়েছে। দলের বিরুদ্ধে তাঁদের কোনও অভিযোগ নেই। তবে গ্রামে যাঁরা দৌরাত্ম্য চালাচ্ছিল তাঁদের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। শাহজাহান ও তাঁর অনুগামীরা দলের দেওয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করছিল। শাহজাহান সহ কয়েকজন গ্রেফতার হলেও তাদের ঘনিষ্ঠ অনেকেই বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। হাজি সিদ্দিক মোল্লা, হাশেম মোল্লা, জুলফিকার মোল্লা তাদের মধ্যে অন্যতম।
নুরুদ্দিন মোল্লা নামে এক গ্রামবাসী জানান, তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখল করেছে জহিরুল হাসান। এব্যাপারে শাহজাহানকে বলতে গেলে কোনও সাহায্য পাননি। উল্টে মারধর করা হয়েছে। এখন ওই জমিতে জোর করে বাড়ি তৈরি করে ভোগ করছে জহিরুল। নুরুদ্দিন বলেন, "এখন আমি ওই জমি ফেরত পেতে চাই।" আরও এক গ্রামবাসী রিনা দাসের দাবি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে শাহজাহান ও তার গুন্ডাবাহিনী তাঁদের মারধর করেছিল।
এদিকে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে রবিবারও সন্দেশখালি থানার কাছে সন্দেশখালি সামাজিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠে অভিযোগ নেওয়ার জন্য বিশেষ একটি ক্যাম্প করা হয়েছে। বিজেপি নেত্রী তথা আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়ালের নেতৃত্বে এদিন ১৫ জন আইনজীবীর একটি দল সন্দেশখালিতে এসেছেন। মানুষদের কাছ থেকে অভিযোগ নেওয়ার কাজ শুরু করেছেন। মহিলাদের শ্নীলতাহানি, এলাকার মানুষদের সম্পত্তি দখল, বাড়িঘর ভাঙচুর সহ নানান ধরনের অভিযোগ তাঁরা পাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন।