
শেষ আপডেট: 26 June 2023 04:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটের আর এক বছরও বাকি নেই। ফলে জাতীয় স্তরে সরকার ও বিরোধীদের লড়াই ক্রমশ জমজমাট হয়ে উঠছে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবেই দেখা যাচ্ছে যে কর্নাটকে ভোট সাফল্যের পর কংগ্রেস যেন পিঠে অক্সিজেন ব্যাগ নিয়ে নেমেছে। একটা বলও জাজমেন্ট দিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে না।
মোদী (Narendra Modi) সরকারের সাফল্য নিয়ে একটি সংবাদপত্রে প্রতিবেদন লিখেছিলেন নির্মলা সীতারামন। সরকার দেশের গড় উৎপাদন বাড়াতে ও দেশকে বৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে কীভাবে সফল হয়েছে তা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন তিনি। কিন্তু সোমবার সকাল হতেই সেই প্রতিবেদনের লাইন ধরে ধরে জবাব দিতে চাইলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পি চিদম্বরম (P Chidambaram)। তাঁর কথায়, মোদী সরকারকে কোথাও কোথাও লম্বা লাগছে ঠিকই। তাঁর কারণ হল, তাঁর সরকার ইউপিএ সরকারের ঘাড়ের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে।
চিদম্বরমের কথায়, অর্থমন্ত্রী সরকারের সাফল্যের খতিয়ান দিয়েছেন। কোনও সরকার পাঁচ বা দশ বছর ক্ষমতায় থাকলেই এই সব উদাহরণ দেওয়া যায়। উনি দাবি করেছেন, মোদী জমানায় দুধ, মধু, ফল ও সবজি উৎপাদনে দেশ শীর্ষে পৌঁছেছে। আসল ঘটনা হল, বহু বছর আগেই এই সব উৎপাদনে ভারত শীর্ষে পৌঁছেছে। আমরাও সেটা ধরে রাখতে পেরেছিলাম।
অর্থাৎ চিদম্বরম বোঝাতে চেয়েছেন এই সাফল্য ইউপিএ জমানাতেও ছিল। এটা নতুন কোনও বিষয় নয়।
চিদম্বরম আরও বলেন, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী সরাসরি নগদ হস্তান্তর তথা ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের জন্য কৃতিত্ব নিতে চেয়েছেন। অথচ ঘটনা হল, ইউপিএ জমানায় আধার কার্ড শুরু হয়েছিল। তার ভিত্তিতে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার ইউপিএ জমানা থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল।
এটা ঠিক যে আধার চালু করার ব্যাপারে মূল উদ্যোগ ছিল মনমোহন সরকারেরই। ইউপিএ জমানাতেই ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে রান্নার গ্যাসের ভরতুকির টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি দেওয়া শুরু হয়েছিল।
প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী আরও বলেছেন, বর্তমান অর্থমন্ত্রী দাবি করেছেন, তাঁদের মেয়াদে ১১.৭২ কোটি টয়লেট তৈরি করা হয়েছে। ওনার উচিত নিজের সরকারের রিপোর্ট পড়ে নেওয়া। কতগুলো টয়লেট ব্যবহারই হচ্ছে না আর কতগুলো টয়লেট জলের অভাবে ব্যবহার করার যোগ্য নয়, সেটা পড়ে দেখুন।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী তাঁর প্রবন্ধে লিখেছেন, পাঁচটি ঘটনায় বিরোধীরা আদালতে গিয়ে হেরে গিয়েছে।
এর জবাবও দিয়েছেন পালানিয়প্পন চিদম্বরম। তিনি বলেন, সংসদে আইন পাশ হওয়ার আগেই সুপ্রিম কোর্ট তিন তালাক প্রথা বাতিল করেছিল। পণ্য পরিষেবা আইন নিয়ে অসংখ্য মামলা এখনও ঝুলে রয়েছে। ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতে এখনও মামলার নিষ্পত্তি হয়নি।
কংগ্রেসের বক্তব্য, নরেন্দ্র মোদী জমানায় কোনও নতুন সামাজিক প্রকল্প হয়নি। পুরনো প্রকল্পকেই নতুন জামা পরিয়ে কখনও স্বচ্ছ ভারত মিশন নাম দিয়েছেন তো কখনও জল জীবন। এমনকি ঘটনা হল, একশ দিনের কাজ প্রকল্প নিয়ে উনি সংসদে দাঁড়িয়ে কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেছিলেন। বলেছিলেন, গত ৭০ বছরে কংগ্রেস শুধু গরিবকে মাটি কাটার কাজ দিতে পেরেছে। অথচ ঘটনা হল, একশ দিনের কাজ প্রকল্প বাস্তবায়ণ ছিল ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। গরিব মানুষের কাজ পাওয়ার অধিকারকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। কোভিডের সময়ে এই একশ দিনের কাজই গরিব মানুষকে বাঁচিয়েছিল।
বিজেপি জিতলে ২ হাজার টাকা করে পাবেন বাংলার মহিলারা! নন্দীগ্রামের সভায় প্রতিশ্রুতি শুভেন্দুর