দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবার নবান্ন ঘেরাওয়ের পুনরাবৃত্তি হতে পারে উত্তরকন্যা ঘেরাও অভিযানের মাধ্যমে।উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়নে ব্যর্থ রাজ্য সরকার-- মূলত এই স্লোগানকে সামনে রেখে আগামীকাল, সোমবার উত্তরকন্যা ঘেরাও কর্মসূচি রয়েছে বিজেপি যুব মোর্চার।
বিজেপির দাবি, এ পর্যন্ত বিজেপি যুবমোর্চার উত্তরবঙ্গে এটাই সর্ববৃহৎ কর্মসূচি। যা সাফল্যমণ্ডিত করতে উত্তরের ৮ জেলার লক্ষাধিক যুবকর্মী অংশগ্রহণ করবেন বলে ইতিমধ্যে দাবি করেছেন যুব মোর্চার রাজ্য নেতৃত্ব। অভিযানকে বাস্তবায়িত করতে গত সাতদিন ধরে কার্যত উত্তরবঙ্গের মাটি কামড়ে পড়ে আছে বিজেপি যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি সৌমিত্র খাঁ। গত সাতদিন ধরে উত্তরবঙ্গের জেলা গুলিতে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছেন। এর ফলে কর্মসূচিগুলিতে ব্যাপক সংখ্যায় যুব মোর্চার কর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।
অন্যদিকে জলপাইগুড়ি, ময়নাগুড়ি-সহ বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের বাইক র্যালি আটকে দিয়ে যুব মোর্চার কর্মীদের আটক করেছে পুলিশ। কিন্তু তাতেও দমেননি তাঁরা। গতকাল পর্যন্ত সমস্ত কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন প্রচুর যুব কর্মী। বিজেপির অভিযোগ, প্রস্তুতি দেখে আতঙ্কিত তৃণমূল। তাই এবার আগামীকালের অভিযান বানচাল করতে পুলিশকে মোতায়েন করে দিয়েছে শাসকদল।
বিজেপি যুবমোর্চার জেলা সভাপতি পলেন ঘোষ অবশ্য দাবি করেন, "এই অভিযানকে বানচাল করার ক্ষমতা তৃণমূলের নেই। তাই তারা পুলিশকে লেলিয়ে দিয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলার যেই রাস্তাগুলি দিয়ে আমাদের কর্মীরা উত্তরকন্যা অভিমুখে আসবে সেই রাস্তাগুলিতে পুলিশ ইতিমধ্যে নাকা চেকিং এর নামে ব্যারিকেড লাগানো শুরু করে দিয়েছে। আমরা আশঙ্কা করছি নবান্ন ঘেরাও কর্মসূচির মতো পুলিশ এখানেও আমাদের আটকানোর চেষ্টা করবে। কিন্তু তাতে খুব লাভ হবে না। আগামীকাল আমরা উত্তরকন্যায় ঢুকে বিজেপির পতাকা লাগিয়ে আসব। কারণ আমরাই আর চার মাস পর রাজ্যের ক্ষমতা দখল করতে চলেছি।"
যুব তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি সৈকত চ্যাটার্জী পাল্টা বলেন, "পরীক্ষার্থী পরীক্ষার হলে ঢুকে যদি বলে হলের চেয়ার-টেবিল খারাপ তবে বুঝতে হবে তার পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতিই হয়নি। আসলে এখন এসব বলছে, কারণ আগামীকাল ওদের লোকই হবে না।"
উত্তরকন্যায় গেরুয়া পতাকা লাগাবার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, "রাজ্যের ক্ষমতা দখল করতে গেলে আগে ওদের ভোটে জিততে হবে। ওদের মুখ্যমন্ত্রী কে হবে, কৈলাশ বিজয়বর্গী না উত্তরপ্রদেশ থেকে কাউকে ভাড়া করে আনবে। ওরা এই রাজ্যে ৫০টি আসন জিতে বিরোধীর তকমা পাক তারপর রাজ্য দখল নিয়ে ভাবুক।"