দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: জেলা জুড়ে চলছে ভারী বৃষ্টি। সেই বৃষ্টি উপেক্ষা করেই চলছে শেষ যাত্রার আগে শহিদ মঞ্চ বানানোর কাজ। মেঘলা আকাশের মতোই মন ভার আলিপুরদুয়ারের প্রত্যন্ত বিন্দিপাড়ার। আর সাত মাস পরেই চাকরির মেয়াদ শেষ করে একেবারে বাড়ি ফেরার কথা ছিল বিপুল রায়ের৷ তার বদলে শুক্রবার ফিরবে তাঁর কফিন বন্দি দেহ।
ছটফটে হাসিখুশি প্রাণবন্ত বিপুল। পাড়ার সবার কাছের মানুষ। তাঁর জন্য শহিদ মঞ্চ তৈরি হচ্ছে এখনও ভাবতে পারছেন না কেউ। তাঁর পরিবার তো বটেই শোকের ছায়া গ্রাস করেছে গোটা বিন্দিপাড়াকেই। সেনাবাহিনীতে চাকরি করলে দেশরক্ষায় জীবন বাজি রাখতে হয়, জানেন সবাই। কিন্তু তাও বিপুলের এমনভাবে চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না কেউই।
সোমবার লাদাখে চিনের সেনাদের সঙ্গে লড়াইয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর সিগন্যাল রেজিমেন্টের জওয়ান বিপুল। আলিপুরদুয়ারের বাড়িতে রয়েছেন তাঁর বাবা-মা। স্ত্রী রুম্পা পাঁচবছরের মেয়ে তামান্নাকে নিয়ে থাকেন মিরাটে। সেখানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। বিপুলের ভাই কর্মসূত্রে থাকেন ভুটানে। ভাটিবাড়ি হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করে ২০০২ সালে বিপুল নাম লিখিয়েছিলেন সেনাবাহিনীতে। অবসর নিয়ে আর এক বছর পরেই বাড়ি ফিরে আসার কথা ছিল তাঁর। তার আগেই এল ফোন। এক ফোনেই ভেঙে গেল গোটা পরিবারের মেরুদণ্ড।
বৃদ্ধ বাবা নীরেন রায় জানান, প্রতিবছর নিয়ম করে একবার অন্তত বাড়ি আসতেন বিপুল। এ বার লকডাউনের জন্য আসতে পারেননি। বলেছিলেন সাতমাস পরেই তো ফুরিয়ে যাচ্ছে চাকরির মেয়াদ। তারপর একেবারেই চলে আসবেন। কথা বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন নীরেনবাবু। বলতে থাকেন, ‘‘দূরে থাকতো। তবুও ওই ছিল আমার পরিবারের মেরুদণ্ড। গোটা পরিবারই চলতো ওকে কেন্দ্র করে। এবার কীভাবে বাঁচব আমরা?’’
বৃহস্পতিবার রাতেই নিহত জওয়ানের দেহ নিয়ে আসা হচ্ছে হাসিমারায়। সেখানে ছেনা ছাউনিতে রাখা থাকবে দেহ। শুক্রবার সকালে বিন্দিপাড়ায় বিপুলের গ্রামের বাড়িতে তাঁর দেহ নিয়ে আসা হবে। এদিনই বিমানে করে আলিপুদুয়ারের বাড়িতে পৌঁছবেন বিপুলের স্ত্রী ও কন্যাও।
লাদাখে চিনের সঙ্গে যুদ্ধে নিহত রাজ্যের দুই জওয়ানের পরিবারের একজন করে সদস্যকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বার্তা নিয়েই আজ বিপুল রায়ের বিন্দিপাড়ার বাড়িতে গিয়েছিলেন বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার পর শহিদ মঞ্চের কাজও ঘুরে দেখেন তিনি।