
শেষ আপডেট: 30 January 2020 12:16
বেশ কয়েক বছর ধরেই সরস্বতী পুজোর সময় পুরোহিত পাওয়া নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল এই স্কুলে। গতবার স্কুলের সকলে মিলে আলোচনা করে ঠিক করেন, স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে কেউ এই দায়িত্ব পালন করবেন। এগিয়ে আসেন কয়েকজন ছাত্রী। তাঁদের মধ্য থেকে গতবছর বেছে নেওয়া হয়েছিল স্নিগ্ধা নামে এক ছাত্রীকে। এবার স্নিগ্ধার পরিবর্তে এই দায়িত্ব পালন করলেন একাদশ শ্রেণির সংস্কৃত বিভাগের ছাত্রী আয়েশা বিশ্বাস।
গত এক মাস ধরে স্কুলের সংস্কৃতের শিক্ষিকা তনুশ্রী পাল ওই ছাত্রীকে পুজো করার জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তারপর এল পুজোর দিন। সমস্ত আচার পালন করেই সম্পন্ন হল শ্রীপঞ্চমীর পুজো। ছাত্রছাত্রী নির্বিশেষে সকলের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল আলপনা প্রতিযোগিতা।
নতুন এই ভূমিকা সম্পর্কে বলতে গিয়ে আয়েশা জানালেন, ‘শিক্ষকশিক্ষিকারা বলেছিলেন, তাই এগিয়ে এসেছি। গত বছর স্নিগ্ধাদিকে দেখেছিলাম পুজো করতে, এবার আমি করলাম। দারুণ অভিজ্ঞতা। আমার মতো বাকিরাও যাতে এই ঐতিহ্য ধরে রাখে সেই আশায় রইলাম।’ স্কুলের প্রধানশিক্ষক স্বপনেন্দু নন্দী বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের মনোবল বাড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরুষরাই সব পারে – এই ভাবনা থেকে সরে আসতে হবে। তাই গতবার থেকে এই উদ্যোগ নিয়েছি। আলপনা প্রতিযোগিতাও হয়েছে।’
গত বছর মাধ্যমিকে ভাল ফল করে শিক্ষকশিক্ষিকাদের নজর কেড়েছেন সবজি বিক্রেতার মেয়ে আয়েশা। শিক্ষানুরাগী মদন ভট্টাচার্য তাঁর পড়াশোনার জন্য আর্থিক সহায়তাও করেছেন। সবকিছু যেন আজ সার্থক হল এই প্রথা ভাঙার মধ্য দিয়ে।