দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার নবান্নের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে মিষ্টির দোকান খোলার অনুমতি দিয়েছিলেন। লকডাউনের মধ্যে বেলা ১২টা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত দোকান খোলার কথা বলেছিলেন তিনি। কিন্তু কলকাতা থেকে হুগলি, বর্ধমান থেকে মুর্শিদাবাদ-- রাজ্যের কোনও প্রান্তেই মিষ্টি ব্যবসায়ীরা এই ঘোষণায় বিশেষ খুশি হতে পারেননি। বরং তাঁদের অনেকেরই বক্তব্য, এই ঘোষণায় দোকানের ঝাপ হয়তো খুলবে কিন্তু ব্যবসায়ীক লাভ কিছুই হবে না।
পশ্চিবঙ্গ মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রবীন্দ্র কুমার পাল বলেন, "অধিকাংশ জায়গাতেই কারিগররা বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। ফলে মিষ্টি বানানোর লোক পাওয়াই মুশকিল।" একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, "দুধ বা ছানা সাপ্লাইয়ের যানবাহনই তো বন্ধ! মিষ্টি তৈরি হবে কী দিয়ে!" তবে একেবারে বন্ধ থাকার চাইতে চার ঘণ্টা খোলার অনুমতিকে একাংশের ব্যবসায়ী ইতিবাচক হিসেবে নিচ্ছেন বলেই মত রবীন্দ্রবাবুর।
হুগলি, হাওড়া এবং কলকাতার একটা অংশেও দুধ ও ছানা সাপ্লাই লাইন লোকাল ট্রেন বন্ধ। সিঙ্গুর, তারকেশ্বরের উৎকৃষ্ট ছানা বা চাঁপদানি বা ভদ্রেশ্বর থেকে যে বিপুল পরিমাণ দুধ সাপ্লাই হতো দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় তাও বন্ধ হয়ে গেছে। আর বড় দোকানগুলি ছাড়া পাড়ার ছোট দোকানগুলির সেই সঙ্গতি নেই যে পণ্যবাহী গাড়ি ভাড়া করে দুধ বা ছানা এনে মিষ্টি তৈরি করবে। ফলে উপকরণেই টান পড়ছে।
পয়লা বৈশাখেও বিশেষ লাভ হবে না বলে মনে করছে মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সমিতি। কারণ, নববর্ষে মূল অর্ডার আসে ব্যবসায়ীদের থেকে। হালখাতার প্যাকেটের অর্ডার। কিন্তু এবার কোথাও হালখাতা হবে না। তবে সাধারণ বাড়িতে যাঁরা দই, মিষ্টি কেনেন তাঁরা কিছু কিনতে পারেন বলে আশা মিষ্টি ব্যবসায়ীদের।
রবীন্দ্রবাবু বলেন, দোকান খোলা রাখার সময়টাকে যদি একটু বাড়িয়ে দেওয়া হয় তাহলে কিছুটা সুরাহা হতে পারে। বেলা ১২টার পরিবর্তে যদি সকাল ন'টা বা ১০ টা থেকে খোলার অনুমতি মেলে তাহলে কিছু বেচাকেনা হলেও হতে পারে বলে তাঁর মত। তবে উপকরণ যোগান কী ভাবে হবে তা নিয়ে চিন্তা থেকেই যাচ্ছে।