দ্য ওয়াল ব্যুরো: রথযাত্রা আটকে রয়েছে আদালতে। কিন্তু আদালত কী বলবে, কবে বলবে, তা নিয়ে আর অপেক্ষা করতে রাজি নয় বঙ্গ বিজেপি। তাই জানুয়ারিতেই সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহকে এনে রাজ্যে দু’টি জনসভা করাতে চাইছে বিজেপি।
শনিবার বিকেলে রাজ্য বিজেপি-র শীর্ষ নেতার বৈঠকে বসবেন। সেখানে থাকবেন কেন্দ্রীয় বিজেপি-র তরফে বাংলার দুই পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় এবং অরবিন্দ মেনন। বিজেপি নেতৃত্বের তরফে জানানো হয়েছে, শনিবারের বৈঠকেই গোটা কর্মসূচি ঠিক হবে। তবে বিজেপি-র এক শীর্ষ নেতার দাবি, ১৬ জানুয়ারি অমিত শাহের সভা হবে শিলিগুড়িতে। ২৩ অথবা ২৪ জানুয়ারি সভা হবে কলকাতায়। বঙ্গ বিজেপি-র তরফে সর্বভারতীয় সভাপতিকে মৌখিকভাবে এই তারিখগুলির কথা জানিয়েও রাখা হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে খবর।
লোকসভার জন্য গা গরম করার যে কর্মসূচি নিয়েছিল অমিত শাহ- নরেন্দ্র মোদীর বাংলা ইউনিট, তা এমনিতেই এক মাস পিছিয়ে গিয়েছে। ৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল রথযাত্রা। কোচবিহার, তারাপীঠ এবং গঙ্গাসাগর থেকে বেরনোর কথা ছিল রথের। ওই সময়ই রথযাত্রা উদ্বোধন করে জনসভা করার কথা ছিল সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের। আসার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও। কিন্তু আদালতের রায়ে কার্যত ভণ্ডুল হয়ে যায় বিজেপি-র কর্মসূচি। দু’বার করে কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ এবং ডিভিশন বেঞ্চে ঘুরে রথ মামলা আপাতত সুপ্রিম কোর্টে। তাই রথ নিয়ে আর সময় নষ্ট করতে চাইছে না বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের এক নেতার কথায়, এর মাঝে যদি আদালতের রায় রথযাত্রার পক্ষে যায়, তাহলে কোনও একটি রুটে প্রতীকী যাত্রা বের করা হবে। কিন্তু বঙ্গ বিজেপি-র টার্গেট এখন অমিত শাহকে দিয়ে জনসভা করিয়ে কর্মীদের মনোবলকে চাঙ্গা করা।
তবে ব্রিগেডের দিনক্ষণও এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানাচ্ছেন বিজেপি নেতারা। রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় এক বিজেপি নেতার কথায়, উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গের দুটি জনসভাকে ব্রিগেডের রিহার্সালের মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট রথযাত্রা নিয়ে কী বলে তার উপর ঠিক হবে ব্রিগেডের জনসভার দিন। তবে লোকসভার আগে যে ব্রিগেডে জনসভা করে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি জানান দেবে বিজেপি তা পরিষ্কার। কিন্তু আপাতত বিজেপি নেতারা মনোনিবেশ করছেন, শিলিগুড়ি এবং কলকাতার জনসভাতেই।