
শেষ আপডেট: 22 May 2023 12:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: অভাবের সংসারেও মেধা চাপা থাকে না। ঝাড়গ্রামের বিপিন মুর্মু যেন তারই প্রকৃত উদাহরণ। রোজগারের জন্য দিনমজুরের কাজও করেছে সে। কিন্তু পড়াশোনাকে ভুলে যায়নি, তারই ফলস্বরূপ এবার মাধ্যমিকে (Madhyamik Exam 2023) ৬৫৪ পেল বিপিন।
ঝাড়গ্রামের (Jhargram) কাজলা গ্রামের আদিবাসী পরিবারের ছেলে বিপিন। সংসারে রয়েছে বাবা ও মা। বাবা ভীমচরণ মুর্মু পেশায় দিনমজুর। মা মানসিক ভারসাম্যহীন। পরিবারে দিন আনা দিন খাওয়া অবস্থা। লকডাউনের সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়েই কাজের খোঁজে বেরিয়ে পড়ে বিপিন। রোজ ৬ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে কাজে যেত। ফিরে এসে বই নিয়ে বসে পড়ত।
লকডাউনের পর রাজ্যে বেড়েছিল স্কুলছুটের সংখ্যা। অনেকেই পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে দিয়ে কাজে নেমে পড়েছিল। কিন্তু বিপিন সে পথে হাঁটেনি। কাজের পাশাপাশি চালিয়ে গেছে নিজের পড়াশোনা। পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার উজান হরিপদ হাইস্কুল থেকে এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দেয় সে। সেই স্কুলে এবার মাধ্যমিকে প্রথম হয়েছে বিপিন। ৯৩.৪২ শতাংশ নম্বর পেয়েছে সে।
বিপিনের ফল বের হতেই খুশির হাওয়া কাজলা গ্রামে। ওই গ্রামের কেউই ভাবেননি তাঁদের গ্রামের কোনও ছেলে এমন ফল করবে। কারণ বিপিন প্রথম কোনও ছেলে যে এই গ্রাম থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছিল।
বিপিন এই তাগিদ পেল কোথা থেকে? তাঁর কাকা টিপু মূর্মুর কথায়, তাঁদের দিদি-জামাইবাবুর উৎসাহেই বিপিন পড়াশোনাতে এতদূর এগিয়ে যেতে পেরেছে। তাঁরাই খড়্গপুর গ্রামীণের শোভাপুর এলাকার শিক্ষক দীপক মণ্ডলের সঙ্গে বিপিনের যোগাযোগ করিয়ে দেন। তারপর তাঁর চেষ্টায় বিপিন পড়াশোনা চালিয়ে নিয়ে গেছে।
দীপক মণ্ডল শোভাপুর বিনোদবিহারী নার্সারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তিনি বলেন, বিপিন ছোটবেলা থেকে তাঁর স্কুলে পড়ত। পঞ্চম শ্রেণিতে উজান হরিপদ হাইস্কুলে ভর্তি করা হয়। লকডাউনের সময় তাঁর ওখানকার হস্টেলে থাকত বিপিন। কিন্তু লকডাউনের সময় কাজ শুরু করে।
তিনি আরও বলেন, বিপিন ছোটবেলা থেকে মেধাবী ছিল। বেশিরভাগ ক্লাসেই প্রথম হত সে। সেই পড়াশোনার ফল পেল বিপিন। এরপর জীবনে কীভাবে এগোতে চায় বিপিন? তাঁর কথায়, 'সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা শুরু করে দিয়েছি। ভবিষ্যতে ডাক্তারি পড়তে চাই।'
বাংলায় ক্যানসার চিকিৎসায় বড় সিদ্ধান্ত, এসএসকেএম-টাটা যৌথভাবে গড়বে হাসপাতাল