
শেষ আপডেট: 15 September 2021 14:32
না একটা দুটো নয়, রাজ্য তথা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসে এই হাটে কেনা-বেচা করতে (transaction)। তবে এই হাট ফাঁকা মাঠে বসে না। আধুনিকতার যুগে কংক্রিটের হাট। জব্বার হাট, এভিএম হাট এমন অনেক নামের মাল্টিস্টোরেজ বিল্ডিংয়ের ভিতরে শয়ে শয়ে দোকান। কেনা-বেচার ধুম পড়েছে। সব দামের পোশাক মেলে এই হাটে। যার যেমন পুঁজি তেমন বাজার সারেন ক্রেতারা।
বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তো বটেই, এমনকি দেশের একাধিক রাজ্য থেকে শনি-রবিবার মানুষ ছুটে আসেন হাটে। পুরী থেকে মাসে এক-দুবার আসতেই হয় রত্নাগর পাত্রকে। যখন যেমন পুঁজি থাকে সেই হিসেবে মাল তুলে বাড়ি ফেরেন তিনি। বিভিন্ন দামের ও ডিজাইনের পোশাক মেলে, গুনগত মানের দিক থেকেও একদম ঠিক, তাই আসতেই হয় মেটিয়াবুরুজের হাটে।
করোনার জন্য ব্যবসা ভাল যায়নি এতদিন। তবে সামনে পুজো তাই মাল তুলতে চন্দননগরের এসেছেন ব্যবসায়ী সুজিত সাহা। চন্দননগের বুকে তাঁর জামা-কাপড়ের দোকান। তবে লকডাউনের জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল। মার খেয়েছে ব্যবসা।
সামনে পুজো তাই যতটা সম্ভব পুঁজি নিয়েই মেটিয়াবুরুজের হাটে চলে এসেছেন সকাল সকাল।
করোনার জন্য মন্দা গেলেও পুজোর আগে বাজার আবার ঘুরবে বলে আশাবাদী হাটের ব্যবসায়ীরা। ভিড়ও সেই কথাই বলছে। কেউ আসেন অর্ডার দিতে কেউ বা আবার আসেন মাল তুলতে। নমুনা দেখে পছন্দ চলে, তারপর লটে চলে কেনার কাজ। কোথাও জিন্সের সম্ভার, আবার কোথাও জামার। তাই ঘুরে দেখে নিতে ক্রেতারা পুরো দিনই কাটিয়ে ফেলেন হাটে।
তবে এখন করোনার ভয়ে অনেকেই আবার হাট মুখো হন না। তাঁদের জন্য চলে অনলাইনে কেনাবেচা। মোবাইলে ছবি চলে যায় ক্রেতার কাছে। পছন্দ পর্বের পর অর্ডার মতো দামও ঢুকে যায় বিক্রেতাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। বাড়িতে মাল পৌঁছে যায়। এভাবেই এখন অনেক ব্যবসা হচ্ছে বলে জানালেন ইমারুল গাজী নামের এক হাট ব্যবসায়ী।
তবে হাটের সময় রাস্তার অবস্থা হয়ে ওঠে শোচনীয়। আর বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই। জল জমে একাকার। ক্রেতা-বিক্রেতা সকলেরই পড়তে হয় অসুবিধার মুখে। তাই যেন এই রাস্তা ও যানজটের দিকে প্রশাসন নজর দেয়, এমনই দাবি ব্যবসায়ীদের। 'এইদিকে সরকারের খুব একটা নজর নেই। এখানকার রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। প্রচুর যানজট হয় এই সময়ে। প্রশাসন এই দিকে দৃষ্টি দিক', দাবি ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন ফকিরের। একই দাবি জানালেন বাংলা রেডিমেড গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সংগঠনের সম্পাদক আলমগির ফকিরও।
তবে সুবিধা-অসুবিধার মধ্যেই হাট চলছে হাটের মতো। ১৯৭৪ নাগাদ কয়েকজন স্থানীয় ব্যবসায়ীর উদ্যোগে এই হাট চালু। পরে আস্তে আস্তে হাটের চেহারা পাল্টে যায়। বিভিন্ন জায়গা থেকে কাপড় ব্যবসায়ীরা জড়ো হতে থাকে মেটিয়াবুরুজে। আস্তে আস্তে উঠতে থাকে বিল্ডিং। বাড়তে থাকে ভিড়। শনি-রবির এই হাট এখন জগৎ বিখ্যাত।