দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত কয়েক মাসে একাধিক শিক্ষক বিক্ষোভের সাক্ষী থেকেছে শহর কলকাতা। কখনও প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন তো কখনও পার্শ্বশিক্ষকদের আন্দোলন। গত কয়েকদিন ধরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছেন পার্শ্বশিক্ষক-শিক্ষিকারা। সেই আন্দোলন মঞ্চ থেকেই এবার আমরণ অনশনের ডাক দিলেন তাঁরা। আগামীকাল থেকে অনশনে বসছেন পার্শ্বশিক্ষক-শিক্ষিকারা।
আন্দোলনকারীদের নেতৃত্বের তরফে জানানো হয়েছে, এতদিন অনেক আবেদন-নিবেদনের কথা তাঁরা বলেছেন। কিন্তু সরকার তাঁদের দাবিকে কোনও গুরুত্ব দেয়নি। এই অবস্থা চলতে পারে না। রাজ্য সরকারের এই উদাসীনতার বিরুদ্ধে অনশনই একমাত্র উপায় বলে জানিয়েছেন তাঁরা। তাই আগামীকাল থেকে শুরু হবে এই অনশন। দাবি না মেটা পর্যন্ত অনশন চলবে বলেই জানিয়েছেন তাঁরা।
গত জুলাই মাসে দীর্ঘ অনশনের পর জয় পেয়েছিলেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। দাবি ছিল গ্রেড পে বাড়াতে হবে। শেষমেশ আন্দোলনের তীব্রতার সামনে মাথা ঝোঁকাতে হয় সরকারকে। ২৬০০ টাকা থেকে বেড়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড হয় ৩৬০০টাকা। কিন্তু তারপর দেখা দিয়েছে অন্য সমস্যা।
আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী পৃথা বিশ্বাস জানিয়েছেন, গ্রেড পে বাড়লেও পে-ব্যান্ডের ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন হয়নি। অর্থাৎ যার ভিত্তিতে বেতনের বেসিক বৃদ্ধি পাওয়ার কথা তা প্রায় কিছুই হয়নি। তাঁর বক্তব্য, এতে প্রতি মাসে অসংখ্য প্রাথমিক শিক্ষক কয়েক হাজার টাকা হাতে কম পাচ্ছেন। হিসেব করে দেখা যাচ্ছে, আসলে গ্রেড পে বেড়েছে ৩০০টাকা। বলা হয়েছিল মাদ্রাসা শিক্ষকদের সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতনে বৈষম্য থাকবে না। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।
প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন উস্থির দাবি, এই বেতন কাঠামো নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা হয়েছিল। তাঁদের সমস্যার কথা তাঁরা জানিয়েছিলেন। মন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা সহমতও হয়েছিলেন। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি।
১১ নভেম্বর থেকে বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করতে চেয়েছিলেন পার্শ্বশিক্ষকরা। কিন্তু ১৪৪ ধারা দেখিয়ে সে অনুমতি দেয়নি পুলিশ। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ শর্তসাপেক্ষে পার্শ্বশিক্ষকদের অবস্থান-বিক্ষোভের অনুমতি দিলেও তাতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় রাজ্য সরকার। হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ফের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় রাজ্য।
তারপরেই জানানো হয়, সল্টলেকের বিকাশ ভবন থেকে ১০০ মিটার দূরে ৩০০ জন পার্শ্বশিক্ষক-শিক্ষিকা অবস্থান তথা ধর্নায় বসতে পারবেন। বাকি বিক্ষোভকারীদের সেন্ট্রাল পার্কের কাছে বিধানচন্দ্র রায়ের মূর্তির কাছে শান্তিপূর্ণ অবস্থান করতে বলা হয়৷ ধর্না মঞ্চ থেকেই এই অনশনের সিদ্ধান্ত নিলেন পার্শ্বশিক্ষক-শিক্ষিকারা।