দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্ত্রীর অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এই সন্দেহে তাঁকে খুন করার চেষ্টা করলেন স্বামী। গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান স্ত্রী। খুনের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে স্বামীকে।
ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির অমর কলোনি এলাকায়। শনিবার ঘটনাটি ঘটলেও তা সামনে এসেছে মঙ্গলবার। পুলিশ সূত্রে খবর, জ্ঞানেন্দর শুক্লা নামের ২৪ বছরের ওই তরুণকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি পেশায় ট্যাক্সি চালক।
পুলিশ জানিয়েছে, বছরখানেক হল বিয়ে হয়েছে জ্ঞানেন্দরের। তাঁর স্ত্রী একজন রূপান্তরকামী। বেশ কিছুদিন ধরে জ্ঞানেন্দরের সন্দেহ ছিল, তাঁর স্ত্রীর অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। সেই সন্দেহে শনিবার তিনি একটি ছুরি নিয়ে আক্রমণ করেন স্ত্রীকে। কিছুক্ষণ পরে স্ত্রী মারা গিয়েছে মনে করে রক্তাক্ত অবস্থায় তরুণীকে সেখানে ফেলে তিনি পালিয়ে যান।
জ্ঞানেন্দর চলে যাওয়ার পরে তাঁর স্ত্রী কোনওরকমে নিজের অবস্থার একটা ভিডিও করে তা বাবাকে পাঠান। তাঁর গলায় ছুরির কোপ বসানোয় গলা দিয়ে আওয়াজ বের হচ্ছিল না তরুণীর। কোনও রকমে দরজায় ধাক্কা মারতে থাকেন তিনি। এই দরজার আওয়াজে প্রতিবেশীরা সেখানে গিয়ে ওই অবস্থায় তরুণীকে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁরাই তাঁকে নিয়ে যান অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসে।
এখনও এইমসের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি রয়েছেন ওই তরুণী। অন্যদিকে ঘটনার পরেই অমর কলোনি থানায় জ্ঞানেন্দরের নামে খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেন তরুণীর বাবা।
দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির ডেপুটি কমিশনার আর পি মীনা জানিয়েছেন, “শনিবারই ওই তরুণকে গ্রেফতার করা হয়। জেরায় জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালের ১৩ মার্চ তাঁদের বিয়ে হয়। একজন রূপান্তরকামীকে বিয়ে করায় তা মানতে পারেনি জ্ঞানেন্দরের পরিবার। তাই তাঁকে বের করে দেওয়া হয়। তারপর থেকে তরুণীর বাবার দেওয়া ফ্ল্যাটে থাকতেন তাঁরা।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, “মাসখানেক আগে থেকে জ্ঞানেন্দরের সন্দেহ হয় তাঁর স্ত্রী অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এই নিয়ে দু’জনের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হত। এই খবর শুনতে পেয়ে তরুণীর বাবা তাঁদের ফ্ল্যাট ছেড়ে দিতে বলেন। তখন তাঁরা ৪ নম্বর লাজপত নগরে একটা পুরনো দোতলা বাড়িতে ভাড়া থাকতে শুরু করেন। সেখানেও এই অশান্তি চলতে থাকে। শনিবার স্ত্রীকে মারার চেষ্টা করেন জ্ঞানেন্দর। কিন্তু প্রাণে বেঁচে যান তরুণী।”
জানা গিয়েছে, তরুণীর শরীর কিছুটা ভাল হলে তার বয়ান রেকর্ড করা হবে। তারপর এই মামলা তোলা হবে আদালতে। আপাতত পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে জ্ঞানেন্দরকে।