দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার সকালেই গুরুগ্রাম হানা দিয়েছিল পঙ্গপালের দল। বিকেলের মধ্যে তা পৌঁছে গিয়েছিল দিল্লির প্রান্তে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত মে মাসের মতো জুলাই মাসেও রাজস্থান, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশে হানা দিতে পারে পঙ্গপালের ঝাঁক।
শনিবার গুরুগ্রাম, ফরিদাবাদ, মহেন্দ্রগড় এবং হরিয়ানার রেওয়াড়ি জেলায় প্রায় ৩ কিলোমিটার লম্বা একটি পঙ্গপালের ঝাঁক দেখা গিয়েছে। সাধারণত, বর্ষার সময় বিশেষ করে মৌসুমী বায়ু আগমনের আগের সময়টায় এই পঙ্গপালের দল প্রজনন করে। মূলত মরুভূমি অঞ্চলে ডিম পারার পর ক্রমশ সবুজ ফসল সমৃদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করে পঙ্গপালের ঝাঁক।
বিশেষজ্ঞদের অনুমান, গত ডিসেম্বরে-জানুয়ারি মাসে রাজস্থানে বৃষ্টি ভালভাবে হওয়ায় প্রজনন সঠিক ভাবেই সম্পন্ন করেছে পঙ্গপালের দল। অনুমান এ বার জুনের শেষ থেকে উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতে দাপিয়ে বেড়াবে পঙ্গপালের ঝাঁক। এর আগের বার পঙ্গপালের দলের আগমন হয়েছিল ইরান এবং পাকিস্তান থেকে। তবে এবার সুদূর আফ্রিকা থেকে ভারতে ঢুকতে পারে পঙ্গপালের ঝাঁক। রাষ্ট্রপুঞ্জের ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশনের তরফে এমনটাই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। মূলত পূর্ব আফ্রিকা থেকে উত্তর দিকে এগিয়ে আরব সাগরের উপর দিয়ে সিন্ধু প্রদেশ, রাজস্থানে এবং গুজরাতে মধ্যে প্রবেশ করবে এই পঙ্গপালের ঝাঁক।
এফএও-র আধিকারিক এবং পঙ্গপালের গতিবিধি নির্দেশক কিথ ক্রিসম্যান জানিয়েছিলেন সম্ভবত এ বছর সময়ের আগেই ভারতে এসেছে পঙ্গপালের ঝাঁক। আর সেজন্যই বর্ষার আগমনের আগেই রাজস্থানে ফিরে গিয়েছিল তারা। এরপর বর্ষার আগমনের মরশুমে প্রজনন কাজ শেষ করে ফের নতুন করে ফিরে এসেছে পঙ্গপালের দল। আগের বার উত্তর, মধ্য এবং পশ্চিম ভারতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল পঙ্গপালের দল। ফলে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল প্রভূত। এ বারও তেমনটাই হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই দিল্লিতে জারি হয়েছে চূড়ান্ত সতর্কতা। প্রশাসনের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। চাষের জমিতে রাসায়নিক ছড়ানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে।