দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলন করে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়ে দিল এই মুহূর্তে ভারতে করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে তারা। আর সেখানেই এটা স্পষ্ট করে দেওয়া হল, ভারতে যে যে অঞ্চলে বা রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেশি, সেখানে বেশি করে নজর দেওয়া হবে।
এই সাংবাদিক বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব লাভ আগরওয়াল বলেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে নতুন করে ১০৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এই ২৪ ঘণ্টায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।” তারপরেই এই ‘করোনা হটস্পটের’ কথা তোলেন তিনি।
যুগ্ম সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতে করোনা সংক্রমণের পরিসংখ্যানের দিকে চোখ বোলালেই বোঝা যাবে কোথায় বেশি সংক্রমণ হয়েছে। সেই জায়গাগুলিকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। যাতে সেইসব জায়গায় করোনার সংক্রমণ কমানো যায়, তার জন্য বেশি করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এই মুহূর্তে ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সবথেকে বেশি কেরলে। এই রাজ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ২০২ জন। খুব একটা পিছিয়ে নেই মহারাষ্ট্রও। এই রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৯৬। তারমধ্যে মুম্বই ও থানেতেই শুধুমাত্র ১০৭ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত। সেইসঙ্গে মহারাষ্ট্রেই ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া কর্নাটক ( ৮১ ), উত্তরপ্রদেশ ( ৬৯ ), তেলেঙ্গানা ( ৬৭ ), গুজরাত ( ৫৮ ), রাজস্থান ( ৫৬ ) ও দিল্লিতে ( ৪৯ ) এই ভাইরাসের সংক্রমণ অনেকটাই বেশি। অর্থাৎ এই রাজ্যগুলিকেই ‘হটস্পট’ বলতে চাইছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। সেখানেই অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। সেই তুলনায় পূর্ব ভারত ও উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে সংক্রমণের পরিমাণ কম।
স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ভারতে ৩৪ হাজার ৯৩১ জনের শরীরে কোভিড ১৯ পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। সেই সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। আর তার জন্য আরও ল্যাবরেটরিকেও অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কোনও রকমের ঝঁকি নিতে চাইছে না স্বাস্থ্যমন্ত্রক।
রবিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বাড়িতে বৈঠকে বসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষবর্ধন প্রমুখ। সেখানে এই ভাইরাস মোকাবিলায় পরবর্তী রূপরেখা নির্ধারিত হবে বলে জানা গিয়েছে।