
শেষ আপডেট: 5 September 2018 13:57
মৃত প্রণব দে[/caption]
বুধবারই পাহাড় থেকে ফিরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ দিন সন্ধ্যায় দুর্ঘটনাস্থলে যান তিনি। ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, “আমরা পুরো জায়গাটাই ঘুরে দেখেছি। সবার সঙ্গে কথা বলেছি। পর্যবেক্ষণ করে বুঝলাম এটা আরও বড় দুর্ঘটনা হতে পারতো।“
এরপরেই মেট্রো প্রকল্পের দিকে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “৯ বছর ধরে এখানে মেট্রোর কাজ চলছে। এই কাজের সময় মাঝে মাঝেই কম্পন হয়। রাস্তাঘাটে জলও জমে থাকে।“ মেট্রোর কাজের ফলে এই কম্পনের জন্যই ব্রিজ ভেঙে পড়েছে বলে মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্থানীয়রাও জানিয়েছেন, মেট্রোর কাজের ফলে মাঝে মাঝেই তাঁরা ভূমিকম্পের মতো কম্পন অনুভব করতেন। যদিও এ বিষয়ে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, “এক বছর আগেই মেট্রোর কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে।“
এ দিন আহতদের জন্য ৫০ হাজার, মৃতদের পরিবারের জন্য ৫ লক্ষ এবং গুরুতর আহতদের জন্য ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও তিনি বলেন, “মৃত্যুর বিকল্প কখনও টাকা হয় না, চাকরি হয় না।“ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ ব্রিজ ভেঙে পড়ার পর সবার প্রথম উদ্ধার কাজে হাত লাগান স্থানীয় বাসিন্দারাই। এরপর যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে উদ্ধারকাজে নামে সেনাবাহিনী এবং বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দল। মুখ্যমন্ত্রী সবার কাজের প্রশংসা করে বলেন, “আমাদের টিম খুব ভালো কাজ করেছে। যাঁরা ভালো কাজ করেছেন তাঁদের আমরা পুরস্কৃত করবো।“
এখনও এলাকায় উদ্ধারকার্য চালাচ্ছে এনডিআরএফ। স্থানীয়দের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জানি বেহালার মানুষদের খুব অসুবিধা হবে। দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার মানুষদেরও অসুবিধা হবে। কিন্তু আপনারা একটু সহযোগিতা করুন।“
ব্রিজ ভাঙার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখনও যানজটে বেহাল একেবারে দক্ষিণ শহরতলির একটা বড় অংশ। বিশেষ করে দুর্ভোগে পড়েছেন বেহালার বাসিন্দারা। বিভিন্ন রুট দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেও নাকাল হচ্ছেন অফিস ফেরত নিত্যযাত্রীরা। অনেকেই বলছেন, তাঁরা আধঘণ্টার রাস্তা যাচ্ছেন প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে। এই সমস্যা কবে মিটবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না কেউই।