দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের সংক্রমণে শরীরের নানা অঙ্গে রোগ ধরছে। করোনা কালে সবচেয়ে বড় রিস্ক ফ্যাক্টর মাল্টি অর্গ্যান ফেলিওর। ফুসফুস তো আক্রান্ত হচ্ছেই, হার্ট, লিভার, খাদ্যনালী, কিডনি সবেতেই সংক্রমণ ছড়াচ্ছে ভাইরাস। তবে মার্কিন বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, করোনায় সবচেয়ে বড় রিস্ক ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াচ্ছে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ। এই রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি কোভিড রোগীদের সংখ্যাই এখন বেশি।
'প্লস ওয়ান' সায়েন্স জার্নালে এই গবেষণার খবর ছেপেছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা। ১২ হাজার কোভিড রোগীর উপর পরীক্ষা করে এই তথ্য সামনে আনা হয়েছে।
কী দেখা গেছে?
৭ মার্চ থেকে ১৯ মে অবধি বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি কোভিড রোগীদের উপর পরীক্ষা করে দেখা গেছে দেড় হাজারের বেশি রোগী ক্রনিক কিডনির রোগে আক্রান্ত হয়েছে। সাড়ে তিনশোর বেশি রোগীকে আইসিইউতে ভর্তি করতে হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, এতদিন দেখা যাচ্ছিল করোনাভাইরাস দেহকোষে বিভাজিত হয়ে সংক্রমণ ছড়ালে সারা শরীরেই প্রদাহজনিত রোগ হচ্ছে। কার্ডিওভাস্কুলার রোগ, শ্বাসযন্ত্রের রোগ এবং খাদ্যনালীর সংক্রমণ সেখানে বেশি। এখন দেখা যাচ্ছে কিডনিতে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ছড়াতে পারছে ভাইরাস। তাই ক্রনিক কিডনির রোগ হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
কী রোগ দেখা যাচ্ছে কিডনিতে?
কিডনি হল শরীরের ছাঁকনি। যার কাজ খারাপগুলোকে ছেঁকে বাইরে বার করে দেওয়া। অনেকটা ফিল্টারের মতো কাজই করে কিডনি। রক্তে সোডিয়াম, পটাশিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে কিডনি। হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখতেও এর ভূমিকা আছে। তা ছাড়া, শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, রক্তকণিকা উৎপাদনে সাহায্য করে, হাড়ের স্বাস্থ্য ভাল রাখে কিডনি।

গবেষকরা বলছেন, করোনা সেখানেই সংক্রমণ ছড়াবে যেখানে সে তার রিসেপটর বাইন্ডিং ডোমেন পাবে। অর্থাৎ যে অঙ্গের কোষে ভাইরাস তার বন্ধু প্রোটিন পাবে। কোষের রিসেপটর তথা অ্যাঞ্জিওটেনসিন-কনভার্টিং এনজাইম-২ (ACE-2) ভাইরাল প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন। এই রিসেপটর কিডনির কোষে বেশি আছে। তাই ভাইরাস সেখানে দ্রুত প্রতিলিপি তৈরি করে ছড়িয়ে পড়তে পারছে।
তাছাড়া করোনার সংক্রমণে সাইটোকাইন প্রোটিনের বেশি ক্ষরণে ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহজনিত রোগ বেশি হচ্ছে। যার প্রভাবও পড়ছে শরীরের নানা অঙ্গে।
গবেষকরা বলছেন, ক্রনিক কিডনির অসুখ হয়েছে কিনা তা বোঝা বেশ মুশকিল। এই সমস্যার সে রকম কোনও উপসর্গ থাকে না। বারে বারে প্রস্রাবের সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অবশ্যই ইউরিন পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত। এ ছাড়াও খিদে কমে যাওয়া, বমি বমি ভাব, অল্পেই ক্লান্তি, রক্তচাপের ওঠাপড়া, প্রস্রাবের জায়গায় সংক্রমণ, মুখ-পা ফুলে যাওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখে সতর্ক হতে হবে।