দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু ও কাশ্মীরে লস্কর-ই-তৈবার বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করল উপত্যকার পুলিশ। লস্করের সঙ্গে যোগ থাকা তিনজনকে সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন সরকারি কর্মচারী, একজন দোকানদার এবং আর একজন ঠিকা শ্রমিক। রিয়াসি জেলার এসএসপি রশ্মি ওয়াজির জানিয়েছেন এই তিনজনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর হ্যান্ডলার মহম্মদ কাসেমের।
সূত্রের খবর, এই কাসেম ১৮ বছর আগে কাশ্মীর থেকে পাকিস্তান পালিয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকেই উপত্যকায় ক্রমাগত নাশকতার পরিকল্পনা করত সে। এসএসপি ওয়াজির জানিয়েছেন, যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের দলে রয়েছে আরও ৮ জন। রয়েছে জম্মুর এক মহিলাও। সূত্রের খবর, ওই মহিলা সম্প্রতি পাকিস্তান গিয়ে কাসেমের সঙ্গে দেখা করেছে। এমনকি কাসেমের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনও হয়েছে তার। এই মহিলা-সহ আটজনের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
এসএসপি রশ্মি ওয়াজির জানিয়েছেন, যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের নামে কিছু বেনামি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে আর্থিক লেনদেন হয়েছিল। সেইসব দেখেই সন্দেহ হয় পুলিশের। এরপর বিভিন্ন নথি-তথ্য ঘেঁটে তারপর এই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন জঙ্গিদের পরিবারকে নতুন করে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেওয়ার জন্য প্ররোচনা দিত।
রিয়াসি জেলার মাহোর থানায় গত ৫ অগস্ট একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। ওই এলাকায় লস্কর এজেন্টরা সক্রিয় হচ্ছিল বলে খবর ছিল পুলিশের কাছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন টিম। তারপরেই জালে পাকড়াও হয়েছে এই তিনজন।
গত কয়েকদিন ধরে উপত্যকায় অশান্তি যেন থামছেই না। সোমবার গ্রেনেড হামলা হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুলা জেলায়। সূত্রের খবর, সেনাবাহিনীর একটি গাড়িকে নিশানা করে গ্রেনেড ছোড়ে জঙ্গিরা। তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে রাস্তার উপরেই ফেটে যায় গ্রেনেড। আহত হন ৬ জন সাধারণ নাগরিক।
গতকাল অর্থাৎ রবিবারও গ্রেনেড হামলা হয়েছিল এই বারামুলা জেলাতেই। সোপোর এলাকায় একটি পুলিশ পোস্টকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোড়ে জঙ্গিরা। পাল্টা গুলি চালান চেক পোস্টের দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীরা। গতকাল রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ উত্তর কাশ্মীরের বারামুলা জেলার সোপোর এলাকায় ওয়ারপোরা পুলিশ পোস্টকে নিশানা করে গ্রেনেড ছোড়ে জঙ্গিরা। তবে এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।