
শেষ আপডেট: 18 June 2020 18:30
ডাইনোসরের ডিম নিয়ে গবেষণা নতুন নয়। ২০ বছর ধরে বিভিন্ন প্রজাতির ডাইনোসর ও তাদের ডিম নিয়ে গবেষণা চলছে, জানিয়েছেন মিউজিয়ামের প্যালিওন্টোলজি বিভাগের গবেষক মার্ক নোরেল। তাঁর কথায়, আকাশে উড়তে পারত এমন অ্যাভিয়ান ডাইনোসর ও নন-অ্যাভিয়ান অর্থাৎ যাদের চলাফেরা ছিল মাটিতে, দুই রকম প্রজাতির ডাইনোসরদের ডিমের জীবাশ্ম নিয়ে গবেষণা চলছে। এই খোঁজ প্রথম। প্রোটোসেরাটোপসের মত আকারে ও আয়তে বিশাল ডাইনোসরের ডিম যে এমন হতে পারে, সেটা ধারণারও বাইরে ছিল। প্রোটোসেরাটোপসের নাকের কাছে খড়্গ রয়েছে, অনেকটা বর্তমান পৃথিবীর গন্ডারের মতো। প্রায় সাড়ে সাত কোটি বছর আগে এরা পৃথিবীতে দাপিয়ে বেড়াত। আর মুসরাস হল বিশাল উচ্চতার তৃণভোজী ডাইনোসর যাদের গলাটা জিরাফের থেকেও বেশি লম্বা। উচ্চতা প্রায় ২০ ফুটের কাছাকাছি। ২০-২২ কোটি বছর আগে এখন দক্ষিণ মেরুতে ছিল এদের বাস। স্টিভেন স্পিলবার্গের ‘জুরাসিক পার্ক’ সিনেমায় এই ডাইনোসরের দেখা মিলেছিল।
এবার আসা যাক ডিমের প্রসঙ্গে। প্রোটিনের তৈরি এগসেল বা ডিমের খোলা বা পর্দা অত্যন্ত নরম। কচ্ছপ বা গিরগিটি, সাপের মতো সরীসৃপের এমন ডিম দেখা যায়। জীবাশ্ববিদরা বলছেন, এই দুই বিশাল ডাইনোসরের ডিম আরও বেশি নরম ছিল। ইয়েল ইউনিভার্সিটির জিওফিজিক্স বিভাগের গবেষক জাসমিনা ওয়েইম্যান বলেছেন, জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে কোনও কোনও ডিম আবার ফুটে গিয়ে শাবকও বেরিয়েছিল। সেই ডিমের খোলার রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তার মধ্যে কোনও খনিজ উপাদানই নেই। অর্থাৎ ভ্রুণকে ঢেকে রাখার জন্য একটা নরম আবরণী রয়েছে মাত্র। গবেষকরা বলছেন, এই ডিমগুলোকে মাটির ভেতরে যত্ন করে রেখে দিত ডাইনোসররা। প্রতি মুহূর্তে ডিমগুলিতে আর্দ্র রাখার প্রয়োজন হত।
মোন্টানা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক ডেভিড ভ্যারিকিও বলছেন, এই ডিমের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে সে যুগের ১১২টি বিলুপ্ত প্রাণীর খোঁজ মিলবে যার ওই দুই প্রজাতির ডাইনোসরের সমগোত্রীয় ছিল। খোঁজ পাওয়া যাবে অনেক মিসিং লিঙ্কেরও। জীবাশ্ম বিজ্ঞানের গবেষণায় একটা নতুন দিক খুলে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।