দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গল গ্রহ থেকে আশ্চর্য ছবি পাঠাল নাসার (Nasa) মঙ্গলযান! এ ছবি দেখে বিজ্ঞানীরা বলছেন, কয়েক কোটি আগে লালগ্রহের যে ভূপ্রাকৃতিক নির্মাণ, তাতে জলের ভূমিকা স্পষ্ট। আর এই ছবির সঙ্গে সঙ্গেই সিলমোহর পড়ল, মঙ্গলের প্রাচীন নদী ডেল্টার উপস্থিতির উপর। বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রাচীনকালে লালগ্রহ কেমন ছিল, তা জানার একটা নয়া সূত্রমুখ খুলে দিল নাসার এই ছবি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নাসার রোভার পারসেভেরান্স মঙ্গলের অতি প্রাচীন হ্রদ জেজেরো ক্রেটারে অবতরণ করে। বিজ্ঞানীদের অনুমান ছিল, সেখানে একসময় ডেল্টা নদী ছিল। এর পরেই নাসার পারসেভেরান্স রোভার সেই অনুসন্ধান করতে থাকে।
পারসেভেরান্সের ছবি ভাল করে খতিয়ে দেখে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, যে খাড়া ঢালের ছবি তুলেছে পারসেভেরান্স, তা আদতে ডেল্টা নদীর খাত। ওই খাতটি কীভাবে তৈরি হয়েছে পরতে পরতে, তাও দেখা যাচ্ছে ছবিতে।
https://twitter.com/NASAMars/status/1446225090270482432
নাসার অ্যাস্ট্রোবায়োলজিস্ট অ্যামি উইলিয়ামস ও তাঁর টিমের সদস্যরা জানিয়েছেন, লালগ্রহের এই নদীখাতের যা ভূপ্রাকৃতিক গঠন, তার সঙ্গে পৃথিবীর নদী-দ্বীপগুলির বেশ মিল আছে। শুধু তাই নয়, এ ছবি দেখে তাঁরা বলছেন, মঙ্গল একসময় উষ্ণ এবং আর্দ্র ছিল। এমনকি একসময়ে সেখানে বন্যা হয়েছিল, এমন ইঙ্গিতও রয়েছে ছবিতে।
পারসেভেরান্সের এসব ছবি মঙ্গল-গবেষণাকে এক কদম এগিয়ে দিল বলেই মনে করছেন সকলে। মঙ্গলে প্রাণের সঞ্চার নিয়ে যে রিসার্চ চলছে, তাতেও ইতিবাচক তথ্য যোগ করল এই ছবি।
অ্যামি উইলিয়ামস বলেন, "অরবাইটাল ইমেজ দেখে আমাদের আগেই মনে হয়েছিল, জল ছিল মঙ্গলে। কিন্তু এবার তা আরও স্পষ্ট হল। এতদিন যেন বইয়ের মলাট দেখছিলাম, এবার বইটা পড়ছি আমরা। মঙ্গলে প্রাণ আছে কি নেই তাই নিয়ে যে এত দিন ধরে গবেষণা চলছে, তাতে খানিক সাহায্য করল এই ছবি।"
মার্কিন মহাকাশযান পারসেভেরান্সের আয়তন একটি গাড়ির মতোই। ছ’চাকা বিশিষ্ট এই মহাকাশযান কয়েক বছরের মধ্যে মঙ্গলের পাথর নিয়ে ফিরবে পৃথিবীতে। সেই পাথর নিয়ে চলবে গবেষণা। জানা যাবে, কোটি কোটি বছর আগে কেমন ছিল মঙ্গল? তখন কি আদৌ কি প্রাণ ছিল এই লালগ্রহে? এসবেরই উত্তর খোঁজা হবে পাথর পেলে। তবে তার আগে তার পাঠানো ছবি যে মহাকাশ গবেষণায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক উপাদান হয়ে উঠল, তা বলাই বাহুল্য।