যৌনাঙ্গ বাদ গিয়েছিল সংক্রমণে, ফের তৈরি করা হল হাতে, বিশ্বে প্রথমবার
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোটা বিশ্বে এমন নজির নেই। রক্তে মারাত্মক সংক্রমণের ফলে যৌনাঙ্গ নষ্ট হয়ে যাওয়া রোগীকে নতুন যৌনাঙ্গ দিলেন চিকিৎসকরা। তার বাহুতেই তৈরি করা হল নতুন যৌনাঙ্গ। চার বছর ধরে চলছে প্রক্রিয়া। তবে আরও কিছুটা কাজ বাকি রয়েছে। সেটাও চলতি
শেষ আপডেট: 2 August 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোটা বিশ্বে এমন নজির নেই। রক্তে মারাত্মক সংক্রমণের ফলে যৌনাঙ্গ নষ্ট হয়ে যাওয়া রোগীকে নতুন যৌনাঙ্গ দিলেন চিকিৎসকরা। তার বাহুতেই তৈরি করা হল নতুন যৌনাঙ্গ। চার বছর ধরে চলছে প্রক্রিয়া। তবে আরও কিছুটা কাজ বাকি রয়েছে। সেটাও চলতি বছরেই শেষ হয়ে যাবে বলে আশা। ইংল্যান্ডের এই ব্যক্তিই হলেন এমন চিকিৎসার প্রথম নজির। এর আগে আর কোথাও কারও শরীরে যৌনাঙ্গ তৈরি করার নজির নেই। এবার বাহু থেকে সেই যৌনাঙ্গ নিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় বসানো হবে।
আরও পড়ুন
পেশায় মেকানিক ইংল্যান্ডের বাসিন্দা ম্যালকম ম্যাকডোনাল্ডের সেপসিস রোগ হয় ২০১৪ সালে। প্রথমে পেরিনিয়ামে একটি সংক্রমণ হয়। তখনই হাত ও পায়ের আঙুলের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর যৌনাঙ্গও কালো বর্ণের হয়ে যায়। একটা সময়ে সংক্রমণ মারাত্মক আকার নেয় আর তখন চিকিৎসকদের কাছে যৌনাঙ্গ বাদ দেওয়া ছাড়া কোনও উপায়ই ছিল না। সেই সময়ে অপরেশন করে যৌনাঙ্গ কেটে বাদ দিতে হয় ম্যালকমের।
এর পরে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন ম্যালকম। তার পরেই শুরু হয় নতুন যৌনাঙ্গ তৈরির চেষ্টা। এক যৌনাঙ্গ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ঠিক করেন তাঁর বাহুতে যৌনাঙ্গ তৈরি করা হবে। চার বছরের বেশি সময় ধরে তা চলছে। এই সময় লাগার পিছনে অবশ্য অনেক কারণ রয়েছে। অনেক সময়েই চিকিৎসকরা যখন আসতে বলেছেন তখন আসেননি ম্যালকম। আবার অনেক সময়ে চিকিৎসকরা সময় দিতে পারেননি। এর পরে এখন কোভিড পরিস্থিতির জন্যও কিছুটা সময় নষ্ট হয়েছে। তবে আশা করা হচ্ছে চলতি বছরের মধ্যেই ম্যালকমের বাহুতে নতুন যৌনাঙ্গ তৈরির কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়ে যাবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য সান' সূত্রে জানা গিয়েছে, যৌনাঙ্গ বাদ যাওয়ার পরে চূড়ান্ত অবসাদ শুরু হয় ম্যালকমের। অবসাদ থেকেই নেশা করতে শুরু করেন। সেই সময়ে তিনি কোনও লোকজনের সঙ্গেই মেলামেশা করতেন না। একলা থাকতেন বেশিটা সময়। তিনি জানিয়েছেন, বছর দু'য়েক সব সময়ে মনে হত তাঁর পিছনে পিছনে একটা পুরুষের ছায়া ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এই অবসাদের সময়েই লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসেন ম্যালকম। সেখানে অধ্যাপক ডেভিড র্যালফ ম্যালকমকে এক যৌনাঙ্গ বিশেষজ্ঞের সন্ধান দেন। ওই চিকিৎসক যৌনাঙ্গ ছাড়া জন্মানো এক ব্যক্তির বায়োনিক পেনিস তৈরি করেছেন বলে ম্যালকমকে জানানো হয়। চিকিৎসক র্যালফই তাঁকে বলেন যে, তাঁর বাহুতে একটি যৌনাঙ্গ তৈরি করে দেওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে। এর জন্য কমপক্ষে দু'বছর সময় লাগতে পারে। রাজি হয়ে যান ম্যালকম। এর পরেই চিকিৎসকরা সার্জারি করে নতুন যৌনাঙ্গ গঠন করার উদ্যোগ শুরু করেন।
এই কঠিন সার্জারির জন্য অনেক টাকারও প্রয়োজন ছিল। ম্যালকমের আবেদনে ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস তাঁকে ৫০ হাজার পাউন্ড সাহায্য দেয়। সেই টাকা পাওয়ার পরে পরেই করোনা সংক্রমণ শুরু হয় এবং সার্জারির দিন পিছতে থাকে। এখন আবার নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বাকি থাকা চিকিৎসা শেষ করার জন্য।
'দ্য সান' জানিয়েছে, নিজের বাহুতে প্রথমবার যৌনাঙ্গ দেখে ভীষণ আনন্দ পান ম্যালকম। অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে গোটা প্রক্রিয়ায় কিন্তু তারপরে আনন্দিত ম্যালকম। বাহুতে থাকা যৌনাঙ্গ তাঁর শরীরের অংশ হয়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, চিকিৎসকরা ম্যালকমের রক্তনালী ও স্নায়ুর অংশ দিয়ে নতুন যৌনাঙ্গ গঠন করেন। মূত্রনালী তৈরি করা হয়। হ্যান্ড পাম্পের সঙ্গে বসানো হয় দু'টি টিউব। এসবের জন্য প্রয়োজনীয় ত্বক নেওয়া হয় ম্যালকমের ডান হাত থেকে। নতুন যৌনাঙ্গ পেয়ে খুশি ম্যালকম। আর নতুন নজির তৈরি করতে পেরে খুশি চিকিৎসকরাও। খুব তাড়াতাড়ি হাতে তৈরি হওয়া যৌনাঙ্গ বসানো হবে দু-পায়ের মাঝে নির্দিষ্ট জায়গায়।