
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: অরিত্র কবিরাজ
শেষ আপডেট: 7 January 2025 16:19
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) যেখানেই থাকেন, সেই জায়গাই যেন হয়ে ওঠে একটা ক্লাসরুম। তা সে নবান্ন সভাঘর হোক কিংবা গঙ্গাসাগর মেলা। এ কথা বলার কারণ মঙ্গলবার গঙ্গাসাগর থেকে মুখ্যমন্ত্রী যখন একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন সেরে ফেলেছেন, তার পরই সাগর মেলা উপলক্ষে তিনটি বই প্রকাশ করেন। মেলার অ্যারেঞ্জমেন্ট বুকলেট, মিডিয়া বুকলেট 'সাগর সংবাদ' এবং আর একটি দক্ষিণ ২৪ পরগনার পর্যটন তথ্য সম্বলিত পত্রিকা 'সুন্দরী দক্ষিণী'।
ঘটনা হল, মঞ্চে উপস্থিত জেলা শাসকের হাত থেকে ঠিক যে মুহূর্তে বইগুলি মুখ্যমন্ত্রীর হাতে গেল, তখনই খানিকটা কপাল কুঁচকে যায় মমতার। বইগুলির সামনে-পেছনে পরখ করে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, 'এ তো ইংরেজি। বাংলা কোথায়?' উত্তরে জেলা শাসক জানান, 'সেটা করা হয়ে ওঠেনি'। কথা পড়তে না পড়তেই নিজস্ব ঢঙে মমতার পাল্টা প্রশ্ন, 'থাকো বাংলায়, বাংলায় না করলে হয়?' যদিও এর পরই সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে বলেন, বাংলা ভাষাতেও এই বইগুলো ছাপানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার গঙ্গাসাগর থেকে ১৬১ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন এবং শিলান্যাস করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাগরব্লকে মোট ১৭টি অঙ্গনওয়াড়ি থেকে একাধিক রাস্তার উদ্বোধন হয়েছে। পাশাপাশি উদ্বোধন হয়েছে গোসাবা, নামখানা, পাথরপ্রতিমা ব্লকে ১২টি জেটি, চালতাদুনিয়া, পাখিরালয়ের মধ্যে ৪টি ভেসেল চালু করা হয়েছে। এছাড়াও একাধিক জেটি, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, গড়ে তোলার কাজ হয়েছে।
মুড়িগঙ্গার সেতু তৈরির জন্য ডিপিআর করা হয়েছে তা আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন ফের জানান, সেতুর কাজ শেষ করতে চার বছর সময় লাগবে এবং সরকারিভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা খরচ হবে। মমতার কথায়, এই সেতু ৫ কিমি লম্বা এবং চার লেনের। এই সেতুর নামই হবে গঙ্গাসাগর সেতু।
সোমবার গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন জাতীয় মেলা ঘোষণা করা হচ্ছে না, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবারও সেই প্রসঙ্গে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন তিনি। একই সঙ্গে এও বলেন, গঙ্গাসাগরকে প্লাস্টিকবর্জিত মেলা করাই তাঁদের লক্ষ্য। এটা একটা অভিনব উদ্যোগ। কিন্তু এর জন্যও কেন্দ্র কোনও সাহায্য করেনি। কুম্ভমেলায় কেন্দ্রীয় সরকার হাজার-হাজার কোটি টাকা দিলেও গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে তাঁদের কোনও উদ্যোগ দেখা যায় না বলেই দাবি মমতার।