
শেষ আপডেট: 10 March 2023 07:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংসদে এবং বিধানসভায় মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণের (Womens Reservation Bill) দাবিতে কে কবিতার (K Kavitha) ডাকা অনশন-ধর্না ভালই সাড়া পেল। কার্যত বিজেপি বিরোধী মঞ্চের চেহারা নিয়েছে দিল্লির যন্তরমন্তরে আয়োজিত এই কর্মসূচি। আমন্ত্রিত ১৫ দলের মধ্যে ১২ দলের প্রতিনিধি এখনও পর্যন্ত কবিতার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তবে উল্লেখযোগ্য অনুপস্থিতি কংগ্রেসের।
তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী তথা ভারত রাষ্ট্র সমিতির সভাপতি কে চন্দ্রশেখর রাও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেকে ফোন করে তাঁর মেয়ের ধর্না কর্মসূচিতে প্রতিনিধি পাঠাতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু শুক্রবার ধর্না শুরুর দিকে কংগ্রেসের কেউ হাজির হননি।
ভারত জাগৃতি নামে একটি অসরকারি সংস্থা আয়োজক হলেও এই অনশন-ধর্নার প্রধান উদ্যোক্তা কেসিআর কন্যা তথা ভারত রাষ্ট্র সমিতির নেত্রী কবিতা। শুক্রবার সকালে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদর সীতারাম ইয়েচুরি কর্মসূচির সূচনা করেন। তৃণমূলের তরফে রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব ধর্নায় অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও একাধিক আঞ্চলিক ও জাতীয় দল সেখানে প্রতিনিধি পাঠিয়েছে। কিন্তু কংগ্রেস অনুপস্থিত।
যদিও সংসদে মহিলা বিল নিয়ে অতীতে যারা সবচেয়ে সরব ছিলেন তাঁদের অন্যতম কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধী। কিন্তু কবিতার ডাকে সনিয়ার পার্টির যোগ না দেওয়ার কারণ হিসাবে সামনে আসছে তেলেঙ্গানার ভোটের অঙ্ক।
কয়েক মাস পরই দক্ষিণের ওই রাজ্যে বিধানসভার ভোট। কংগ্রেস খাতায় কলমে সেখানে বিরোধী দল হলেও দ্বিতীয় স্থানের দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে বিজেপি। এই অবস্থায় তেলেঙ্গানার মাটি ফিরে পেতে কেসিআরের দলের থেকে দূরত্ব বজায় রাখার কৌশল নিয়েছে কংগ্রেস। তাছাড়া, স্বয়ং কবিতার বিরুদ্ধে দিল্লির মদকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এই ইস্যুতে তেলেঙ্গানার রাজনীতি উত্তপ্ত।
সিপিএম সেখানে কেসিআরের পার্টির সঙ্গে জোট করে ভোট লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কবিতার কর্মসূচিতে সিপিএম সাধারণ সম্পাদকের বিশেষ উপস্থিতির সেটাই আসল কারণ।
দিল্লির মদকাণ্ডের তদন্তে শনিবারই কবিতাকে ইডির কাছে হাজিরা দিতে হবে। মহিলা বিল নিয়ে কর্মসূচির কারণে ৯ মার্চের পরিবর্তে শনিবার দেখা করবেন তিনি। কংগ্রেস যে তাঁর ধর্নায় যোগ দেবে না, শুক্রবারই তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে কবিতা শুক্রবার বলেন, ‘কংগ্রেস এখন একটি বড় আঞ্চলিক দল মাত্র। গোটা দেশে কংগ্রেস নেই। এই দলের তাই উচিৎ দম্ভ ছেড়ে আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে বোঝাপড়া করা।’
কবিতার কথার জবাবে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ কেসিআর কন্যার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনি ইডির তলব নিয়ে ভাবুন। ইডিকে কীভাবে সামলাবেন সেটা চিন্তা করুন। কংগ্রেসকে নিয়ে না ভাবলেও চলবে।’
কংগ্রেস শেষ পর্যন্ত কবিতার ধর্না এড়িয়ে গেলে সাম্প্রতিক সময়ে দ্বিতীয়বার বিরোধী শিবিরে একঘরে হবে হাত চিহ্নের পার্টি। দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়ার গ্রেফতারির বিরোধিতা করে প্রথমসারির ১০জন বিরোধী নেতা প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন। তাতেও কংগ্রেসকে ডাকা হয়নি। আপের সঙ্গে বিরোধের কারণে তাতে আগ্রহ দেখাননি খাড়্গেরাও।