
বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
শেষ আপডেট: 12 June 2024 17:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সর্ষের মধ্যেই ভূত?
তদন্তের দায়িত্বে যাঁরা, সেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার একাংশর ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির একাংশ আধিকারিক তদন্তে গাফিলতি করছেন, আদালতে সুনির্দিষ্টভাবে সেই তথ্য এসে পৌঁছেছে বলে এদিন ভরা এজলাসে ইডির আইনজীবীকে জানালেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
এ ব্যাপারে ইডির আধিকারিকদের চূড়ান্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে বিচারপতি বলেন, "'আপনাদের কিছু আধিকারিককে সতর্ক হতে বলুন। আদালতের কাছেও বিভিন্ন তথ্য আসছে এবং রিলায়েবল সোর্স থেকেই সেই তথ্যগুলো আসছে। কিছু আধিকারিকের মধ্যে তদন্তে গাফিলতির প্রবণতা দেখা দিয়েছে। কাকে তদন্ত করা হবে, কাকে তদন্ত করা হবে না তা নিয়ে বাছবিচার করা হচ্ছে। ।"
বিচারপতি এও বলেন, "মনে রাখবেন, আদালতের নজরদারিতে তদন্ত চলছে। আমাদের কাছেও কিন্তু খবর আসছে। চূড়ান্তভাবে সতর্ক থাকতে বলুন আপনার অফিসারদের।"
প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এদিন মুখ বন্ধখামে রিপোর্ট পেশ করে সিবিআই ও ইডি। সিবিআইয়ের আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী দাবি করেন, "এই মামলার তদন্তে অন্যতম ব্যক্তি হলেন মানিক ভট্টাচার্য। তাঁকে লন্ডনের কথা বললে তিনি উত্তর দিচ্ছেন টোকিও। তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে সুপ্রিমকোর্টের কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই তাকে ঠিকমত জেরা করা যাচ্ছে না।" এজন্য আদালতের কাছে আরও কিছুটা সময়ও চান সিবিআইয়ের আইনজীবী।
সিবিআইয়ের আইনজীবী একথা বললেও বিচারপতি এদিন স্পষ্ট করে দেন, নিয়োগ মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকায় আদালত সন্তুষ্ট নয়। এই মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত কালীঘাটের কাকু তথা সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রর ভয়েস স্যাম্পল টেস্ট করার পরও কেন তদন্ত এগোচ্ছে না তা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি।
ইডির পাশাপাশি রাজ্যের ভূমিকা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। এই মামলায় রাজ্যকেও রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। রাজ্যের তরফে আদালতে সেই রিপোর্ট জমা না দেওয়ায় এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় বিচারপতিকে। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ৩০জুলাই। ওই দিনের মধ্যে রাজ্যকে রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে দুই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকেও রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।