দ্য ওয়াল ব্যুরো: উটাহর রুক্ষ মরুভূমির সঙ্গে অনেকটা মিল আছে মঙ্গলের পাথুরে ভূমির। ঠিক একই রকম চড়াই, উৎরাই। লাল শিলার বড় বড় খণ্ড ছড়িয়ে আছে। মাটির রঙ লাল। রুক্ষ মরুতে নুড়ি-পাথরের এবড়ো খেবড়ো জমি। এখন সেখানেই নতুন রহস্য দানা বেঁধেছে। লাল পাহাড়ি জমিতে হঠাৎ করেই একটা ধাতব কাঠামো গজিয়ে উঠেছে। ঠিক গজিয়ে উঠিয়ে কিনা বলা যায় না, দেখে মনে হচ্ছে একটা বিরাট ধাতুর কাঠামো কেউ মাটির মধ্যে গেঁথে দিয়ে গেছে।
বলা নেই, কওয়া নেই একটা ধাতুর খণ্ড কীভাবে এল, কোথা থেকেই বা এল সে নিয়ে হইচই শুরু হয়েছে। উটাহর পাবলিক সেফটি অ্যান্ড ডিভিশন ওয়াইল্ড লাইফের আধিকারিকরা বলছেন, দেখতে ধাতব মনোলিথের মতো। মসৃণ, চকচকে। নিখুঁত জ্যামিতিক গঠন। মাটিতে খুঁড়ে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মনোলিথ বলতে বোঝায় পাথর বা শিলাখণ্ড দিয়ে বানানো স্তম্ভ। শিলাস্তম্ভ বলেন অনেকে। উটাহর লাল মরুতে শিলা দিয়ে তৈরি এমন মনোলিথ দেখা যায়। মঙ্গলের মাটিতেও এমন মনোলিথের মতো কাঠামো দেখা গেছে। উটাহর মরুর পাথুরে ভূমি খনিজ সম্পদে ভরা। সেখানে লাল পাথরের মনোলিথ আছে। তবে এমন ধাতব মনোলিথ আগে কখনও দেখা যায়নি।

এই ধাতব কাঠামোই এখন চর্চার বিষয়। বিজ্ঞানী, প্রত্নতাত্ত্বিক, পরিবেশবিদ থেকে সরকারি আধিকারিক, সকলেই ছুটে এসেছেন এই ধাতব মনোলিথকে খুঁটিয়ে দেখতে। স্টেনলেস স্টিলের তৈরি মনোলিথ। তিনটে দিক আছে। উচ্চতা ১০-১২ ফুট (৩ থেকে ৪ মিটার)। পাথরের মধ্যে গেঁথে বসানো আছে।
[caption id="" align="aligncenter" width="608"]
উটাহর লাল পাথুরে মরুভূমি[/caption]
উটাহ-র পাবলিক সেফটি দফতরের লেফটেন্যান্ট নিক স্ট্রিট বলেছেন, অজানা কোনও বস্তু দেখলেই প্রথম মনে হয় ভিন গ্রহ থেকে বুঝি পৃথিবীতে এসেছে। তবে এক্ষেত্রে তেমনটা নয়। এই ধাতব স্তম্ভ অন্য গ্রহের নয়। পৃথিবীতেই তৈরি। মনে করা হচ্ছে, এটি বানানো হয়েছে। তারপর পাথুরে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়েছে। কে বা কারা এমন কাজ করেছে জানা যায়নি। কোনও বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য এমন ধাতব মনোলিথ বানানো হয়েছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।