বিরল প্রকৃতির মারণ ভাইরাস ছড়াচ্ছে বলিভিয়ায়, করোনার মধ্যেই চিন্তা বাড়ল
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণের মধ্যেই এইচ১এন১ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের আতঙ্ক বেড়েছিল। এবার ইবোলার মতোই এক ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ল বলিভিয়ায়। মানুষের শরীরে করোনার মতো সংক্রমণ ছড়াতে পারে এই ভাইরাসও। শরীরে বাসা বাঁধলে মারাত্মক হেমারেজিক জ্বরে আক্রা
শেষ আপডেট: 17 November 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণের মধ্যেই এইচ১এন১ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের আতঙ্ক বেড়েছিল। এবার ইবোলার মতোই এক ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ল বলিভিয়ায়। মানুষের শরীরে করোনার মতো সংক্রমণ ছড়াতে পারে এই ভাইরাসও। শরীরে বাসা বাঁধলে মারাত্মক হেমারেজিক জ্বরে আক্রান্ত হতে পারে রোগী।
গোটা বলিভিয়া জুড়েই এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে কিনা সেটা এখনও নিশ্চিত করে বলা যায়নি। তবে কয়েকজনের শরীরে ইতিমধ্যেই এই ভাইরাসের চিহ্ন দেখা গেছে। আক্রান্ত রোগীর বডি ফ্লুইডের সংস্পর্শে এলে রোগ ছড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)।
এই ভাইরাসের নাম চাপার ভাইরাস। বলিভিয়ার লা পাজ়ে এই ভাইরাস সংক্রমণের খবর সামনে এসেছে। সংক্রমণে এখনও অবধি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে কিনা জানা যায়নি। গত বছরও এই চাপার ভাইরাসের উপদ্রবের কথা শোনা গিয়েছিল বলিভিয়ায়। সংক্রমণে দু’জন স্বাস্থ্যকর্মী ও একজন রোগীর মৃত্যুর খবর সামনে এসেছিল। মার্কিন সিডিসি বলছে, করোনাসংক্রমণের মধ্যেই এই ভাইরাস ছড়ালে চিন্তার কারণ আছে। করোনা শ্বাসযন্ত্রে সংক্রমণ ছড়ায়। এই ভাইরাসও বডি ফ্লুইডের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। তাই করোনা রোগীর শরীরে এই ভাইরাস ঢুকে পড়লে জীবাণু তার চরিত্রও বদলে ফেলতে পারে। তখন আরও বেশি সংক্রামক হয়ে উঠবে।

কী এই চাপার ভাইরাস?
চাপার ম্যামারেনাভাইরাস মূলত অ্যারেনাভিরিডি ভাইরাস পরিবারের অন্তর্গত। এই ধরনের ভাইরাসের কথা প্রথম শোনা গিয়েছিল বলিভিয়ার চাপার প্রদেশে ২০০৩ সালে। অল্প সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। মার্কিন সিডিসি-র এপিডেমোলজিস্ট কেইটলিন কোসাবুম বলেছেন, রক্ত, বীর্য, প্লাজমা, নাক-মুখের তরল ইত্যাদি বডি ফ্লুইডের মাধ্যমে এই ভাইরাসের সংক্রমণ এক শরীর থেকে অন্য শরীরে ছড়াতে পারে। গত বছরও এইভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগীর বীর্যে কয়েক সপ্তাহ থেকে ১৬৮ দিন পর্যন্ত এই ভাইরাস টিকে থাকতে পারে।
অ্যারেনাভাইরাস পরিবারে আরও মারাত্মক প্রজাতি আছে যেমন লাসা ভাইরাস, ম্যাকুপো ভাইরাস। গবেষকরা বলছেন, অনেক সময় এক ভাইরাস তার জিনের বিন্যাস বদলে ফেলে নতুন চেহারা নেয়। তখন সে আরও সংক্রামক হয়ে ওঠে। চাপার ভাইরাসও তেমনই বিরল প্রকৃতির। এই ভাইরাসের সংক্রমণে হেমারেজিক জ্বর হয়। উপসর্গ হল পেটে ব্যথা, বমি, চোখে ব্যথা, ত্বকে র্যাশ, চুলকানি, ঘা। সংক্রমণ বাড়লে রক্তবমি হতেও দেখা যায়। ডেঙ্গি হেমারেজিক জ্বরের সঙ্গে এর উপসর্গের অনেক মিল আছে। শুরুতে এই ভাইরাসের সংক্রমণকে ডেঙ্গি জ্বর বলেই ভুল করেছিলেন ডাক্তাররা। পরে নমুনা পরীক্ষা করে এই ভাইরাসের খোঁজ পান প্যান-আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশনের গবেষকরা।
সিডিসি জানিয়েছে, আরটি-পিসিআর টেস্টে এই ভাইরাসের সংক্রমণ চিহ্নিত করা সম্ভব। তবে এখনও অবধি এই ভাইরাসের কোনও ওষুধ প্রতিরোধী ভ্যাকসিন বের হয়নি।