দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভ্যাকসিনের প্রথম ব্যাচ তৈরি। কয়েক হাজার ডোজ তৈরি হয়ে গেছে। অগস্টের শেষেই প্রথম দফায় ভ্যাকসিন চলে আসবে বাজারে। এমনটাই জানিয়েছে রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রক।
ভ্যাকসিন নিয়ে যতই জলঘোলা হোক, রাশিয়া আগেই জানিয়ে রেখেছিল বছরে একশো কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ তৈরি হবে। ইতিমধ্যেই ২০টি দেশ ভ্যাকসিনের জন্য আবেদন জমা করে রেখেছে। তার মধ্যে ভারত সহ কয়েকটি দেশে রাশিয়ার টিকার উৎপাদন ও বিতরণও হবে।
গত ১১ অগস্ট রাশিয়া ঘোষণা করে, বিশ্বে প্রথম করোনার টিকা নিয়ে আসছে তারাই। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছিলেন, এই টিকা মানুষের শরীরে সুরক্ষিত। তাঁর মেয়েকেও টিকা ইনজেক্ট করা হয়েছে এবং কোনওরকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। প্রথমে সেপ্টেম্বরে টিকা নিয়ে আসার কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্যমন্ত্রক, পরিবর্তিত গাইডলাইনে জানানো হয়েছে অগস্টের শেষেই টিকা নিয়ে আসা হবে।
এরপরাশিয়ার ভ্যাকসিনের সুরক্ষা ও কার্যকারিতা নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে আন্তর্জাতিক মহলে। প্রথম পর্যায়ে মাত্র ৭৬ জনের শরীরে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেই কীভাবে ভ্যাকসিন নিয়ে আসার কথা বলছে রাশিয়া, এই নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে নানা মহলেই। টিকার সুরক্ষাবিধিতেই এবার বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন খোদ রাশিয়ারই অভিজ্ঞ ডাক্তার এবং এথিক্স কাউন্সিলের অন্যতম প্রধান ডক্টর আলেক্সান্ডার। তাঁর অভিযোগ, ভ্যাকসিন তৈরি ও তার ট্রায়ালের দায়িত্বে থাকা প্রধান দু’জন নিয়ম ভেঙে বেআইনিভাবে টিকার প্রয়োগ করেছেন। তাঁরা হলেন গ্যামেলিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ভাইরোলজিস্ট আলেক্সান্ডার গিন্টসবার্গ এবং রুশ সেনার মুখ্য ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক সার্গে বোরিসেভিক। সরকারের এথিক্স কাউন্সিলের নিয়ম ভেঙে টিকার প্রয়োগ হয়েছে দাবি করে কমিটি থেকে পদত্যাগও করেছেন ডাক্তার আলেক্সান্ডার।
১৮ জুন থেকে টিকার ট্রায়াল শুরু করে গ্যামেলিয়া। ৭৬ জন স্বেচ্ছাসেবককে দুটি দলে ভাগ করে টিকা দেওয়া হয়। প্রথম ৩৮ জনকে লিকুইন ভ্যাকসিন ইনজেক্ট করা হয়, বাকি ৩৮ জনকে টিকার পাওডার দেওয়া হয়। রাশিয়ার ক্লিনিকাল ট্রায়াল অর্গানাইজেশনের ডিরেক্টর ভেতলানা জ়্যাভিডোভা বলেছেন, একসঙ্গে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল করা হয়েছে ভ্যাকসিনের। দাবি, দুই পর্যায়তেই সাফল্য মিলেছে। স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে শুরু করেছে। তবে রাশিয়ার দাবিতে বরাবরই আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তাদের দাবি, রাশিয়া কেবলমাত্র একটাই পর্যায়ের ট্রায়াল করেছে। একশোর কম জনকে ভ্যাকসিন দিয়ে তার কার্যকারিতা প্রমাণ করা যায় না। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে কয়েক হাজার জনকে টিকা দিয়ে তার প্রভাব লক্ষ্য করেই সিদ্ধান্তে আসা যায়। বয়স্ক ও শিশুদের শরীরে ভ্যাকসিনের প্রভাব কেমন হবে সেটা এখনও জানা যায়নি। হু-র আরও দাবি করে, টিকা কীভাবে তৈরি হয়েছে সেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সবিস্তারে জানায়নি রাশিয়া। পাশাপাশি, ল্যাবরেটরিতে প্রিক্লিনিকাল ট্রায়ালের ফলাফল এবং প্রথম পর্যায়ের টিকার ট্রায়ালের রেজাল্টও সামনে আনা হয়নি।