দ্য ওয়াল ব্যুরো: কদিন আগেই ফ্রান্সে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে বসে বলে এসেছেন কাশ্মীর ইস্যু ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কোনও দেশকে তিনি এর সমাধানের জন্য ‘কষ্ট’ দিতে চান না। বলাই বাহুল্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এ হেন ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য খুব ভালো ভাবে নেয়নি আমেরিকা। মার্কিন বিদেশ দফতর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন।
ভারত পছন্দ করুক বা না করুক, আমেরিকা যে অভিভাবকত্ব ফলাতে ভালোবাসে, সেটা কে না জানে! ফলে, জম্মু ও কাশ্মীরের বিষয়ে তারা যে নিজেদের পর্যবেক্ষণ জারি রাখবে ও মতামত দিতে থাকবে, সেটা পরিষ্কার।
মার্কিন বিদেশ দফতর জানিয়েছে, কাশ্মীরে নেতাদের গৃহবন্দি করে রাখা ও জনসাধারণের জীবনে নানা রকমের বিধিনিষেধ নিয়ে ওয়াশিংটন খুবই চিন্তিত। মানবাধিকারকে সম্মান করা হোক বলে মন্তব্য করেছে ওয়াশিংটন। এ-ও বলেছে, যা করা হচ্ছে, তা আইন মেনে করা হোক, সকলের সঙ্গে আলোচনায় বসুক ভারত। আমেরিকা এর আগেও কাশ্মীরে মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ওই বিবৃতিতে পাকিস্তানের নাম না করলেও, নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর শান্তি ও স্থিতাবস্থা রাখার বিষয়ে ইসলামাবাদকে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন। বলেছে, সীমান্তে জঙ্গিদের গতিবিধি রোখার বিষয়ে উদ্যোগী হতে হবে।
মার্কিন বিদেশ দফতরের এক মুখপাত্র বলেন, "জম্মু ও কাশ্মীরে শীঘ্রই স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরবে বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে বিবৃতি দিয়েছেন, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। কাশ্মীর-সহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি কথা হোক, সেটা আমরা সমর্থন করি।"
তৃতীয কোনও দেশের মধ্যস্থতা কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত যে চায় না, তা ফের স্পষ্ট করে আমেরিকাকে জানানোর পরে ট্রাম্প কদিন আগেই অবশ্য বলেন, "মোদী সত্যিই মনে করেন, কাশ্মীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। আমার সঙ্গে মোদী ও ইমরানের সম্পর্ক খুবই ভালো। আমি তো আছিই। আমি মনে করি ওঁরা দুজনে মিলেই এই সমস্যার সমাধান করতে পারবেন।"
মঙ্গলবারই ফের পাকিস্তান রাষ্ট্রসঙ্ঘের কাছে অভিযোগ জানিয়ে বলেছে, কাশ্মীরে মানবাধিকার আইন বিরাট ভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। ভারত অবশ্য তাতে পাত্তা দেয়নি। বরং পাকিস্তানকে বলেছে, পুশ ট্রেড, নট টেররিস্টস। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রবীশ কুমার বলেছেন, পাকিস্তানের উচিত স্বাভাবিক প্রতিবেশী দেশের মতো আচরণ করা।