দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের প্রকোপে বন্ধ সব রকম জনসমাগম ও জমায়েত। এখটানা কয়েক মাসের লকডাউনের পরে ধাপে ধাপে আনলক শুরু হওয়ার পরে অন্য অনেক কিছুর পাশাপাশি খুলেছে ধর্মীয় স্থানগুলিও। কিন্তু সে সব জায়গাতেই দর্শনার্থীদের প্রবেশ সীমিত।
কিন্তু তাতে কী, শারীরিক ভাবে প্রবেশ করতে না পারলে কি থমকে থাকবে দেবীদর্শন বা প্রসাদগ্রহণ? কখনওই নয়। তাই অভিনব এক ব্যবস্থা করা হয়েছে জম্মু–কাশ্মীরের রিয়াসি জেলার ত্রিকূট পাহাড়ের ওপর অবস্থিত হিন্দুদের জনপ্রিয় তীর্থস্থান মাতা বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের তরফে। জানা গেছে, দেবীর ভক্তরা এবার গুহার মধ্যে থাকা মাতাদেবীকে লাইভে দেখতে পাচ্ছেন তা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে। নবরাত্রি উপলক্ষে এই অ্যাপটি চালু হয়েছে। মন্দিরের ভিতরের যজ্ঞও দেখা যাচ্ছে তাতে।

এখানেই শেষ নয়। এবার সারা দেশে স্পিড পোস্টের মাধ্যমে বৈষ্ণোদেবীর প্রসাদও ঘরে ঘরে পৌঁছনোর ব্যবস্থা করা হয়েছে! এ নিয়ে ডাক বিভাগের সঙ্গে মন্দির কমিটির চুক্তি হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ক্ষেত্রে মন্দির কর্তৃপক্ষ বা ডাকবিভাগ কেউ কোনও লাভ রাখছেন না বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যেই মন্দির কমিটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন জানাচ্ছেন ভক্তরা।
সোমবার জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর বৈষ্ণোদেবীর এই প্রসাদ হোম ডেলিভারির প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। জানা গেছে, প্রসাদের তিন রকম বিকল্প রয়েছে। ৫০০ টাকা, ১১০০ টাকা ও ২১০০ টাকার বিনিময়ে তিন রকম প্রসাদের প্যাকেজ মিলছে ভক্তদের। সবচেয়ে কম দামের প্যাকেজে রয়েছে ড্রাই ফ্রুট, মিক্সড প্রসাদ, পাউচ প্রসাদ ও দু’প্যাকেট কালো ও লাল রঙের রক্ষাসূত্র।

বৈষ্ণোদেবী বোর্ডের চিফ এক্সকিউটিভ অফিসার রমেশ কুমার বলেন, “করোনার কারণে জনসমাগমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে, তাই বোর্ড নতুন নিয়ম করেছে যে সব ভক্ত ১২ কিমি পাহাড়ি রাস্তা ট্রেক করে গুহাতে আসতে পারবেন না তাঁরাও বাড়িতে বসে বৈষ্ণোদেবীর দর্শন ও আশীর্বাদ পেতে পারবেন। ওয়েবসাইটে বুকিং করা যাবে প্রসাদ। তিন রকম প্যাকেট আছে। কোনও ভক্ত যখন প্রসাদ বুক করবেন, তাঁর নামে পুজো দেওয়া হবে মন্দিরে। তার পরে প্যাক করা হবে প্রসাদ। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাঠিয়ে দেওযা হবে প্রসাদ। এছাড়াও মায়ের দর্শন ও নবরাত্রির যজ্ঞ তো ভক্তরা অনলাইনে দেখছেনই।”
কোভিডের কারণে ৫ মাস বন্ধ থাকার পরে গত ১৬ অগস্ট থেকে পুনরায় বৈষ্ণোদেবী যাত্রা শুরু হয় এবং নিরাপত্তার খাতিরে প্রতিদিন ৫০০ করে তীর্থযাত্রী এই মন্দিরে যান। এ জন্য অনলাইনে আগে থেকে রেজিস্ট্রেশনের পদ্ধতিও শুরু হয়েছে। যা করার সমস্তটা অনলাইনে করে, নির্দিষ্ট দিনে সরাসরি আসতে হবে। কোনও কাউন্টারে এসে কোনও রকম ভিড় করা যাবে না।

শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী মন্দির বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, তারা সবরকমের বিধি, নিয়ম মেনেই ব্যবস্থা করেছে যাত্রার। মন্দির চত্বর নিয়মিত স্যানিটাইজ় করা হচ্ছে। কোভিড বিধির সবটুকু মেনে তবেই পুণ্যার্থীদের জন্য খোলা হয়েছে বৈষ্ণোদেবীর পথ। ঠিক করা হয়েছে নির্দিষ্ট গাইডলাইন।
জম্মুর মাতা বৈষ্ণো দেবী মন্দিরটি সারা দেশে জনপ্রিয়। সারা বছর হাজার হাজার মানুষ এখানে আসেন। অনুমান, বছরে প্রায় ৮০ লক্ষ লোক বৈষ্ণবীদেবীর কাছে যান। ১৯৮৬ সালে মন্দির বোর্ড গঠন হওয়ার পর বৈষ্ণোদেবীতে প্রত্যেক বছরই পুণ্যার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকরাও আসেন এখানে। ‘ট্যুর মাই ইন্ডিয়া’র তথ্য অনুসারে, ভক্তদের অনুদান থেকে বছরে ৫০০ কোটি টাকা আসে মন্দিরে।