দ্য ওয়াল ব্যুরো : পাঁচ বছর আগে কেরল থেকে পালিয়ে আফগানিস্তানে গিয়েছিলেন দুই মহিলা। তাঁরা জঙ্গি সংগঠন আইসিসে যোগ দেন। আইসিসের পরাজয়ের পরে দু'জনেই এখন জেলে আছেন। দু'জনকে দেশে ফেরানোর ব্যাপারে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন তাঁদের মা। একজনের মা সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছেন যাতে তাঁর মেয়েকে ফিরিয়ে আনা হয়। অপর জনের মা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, আমার মেয়ে যদি আইসিসে যোগ দেওয়ার জন্য অনুতপ্ত হয়, তবেই যেন যে ফেরে। না হলে তার ফেরার দরকার নেই।
আফগান জেলে বন্দি দুই মহিলার নাম নিমিশা ও মেরিন। নিমিশা ছিলেন হিন্দু। মেরিন ছিলেন খ্রিস্টান। দু'জনেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তাঁদের স্বামীরা ছিলেন খ্রিস্টান। পরে তাঁরাও মুসলিম হন। দুই দম্পতি সহ মোট ২১ জন ২০১৬ সালের মে-জুন মাসে ভারত ছেড়ে চলে যান আফগানিস্তানে। সেখানে তাঁরা ইসলামিক স্টেট সংগঠনে যোগ দেন। আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের অধীনে থাকা নাঙ্গধের অঞ্চলে তাঁরা থাকতেন। সেখানে মার্কিন হানায় নিমিশা ও মেরিনের স্বামীর মৃত্যু হয়। দুই মহিলাকে গ্রেফতার করে আফগান সরকার।
২০১৯ সালে নিমিশা ও মেরিন সহ মোট চার ভারতীয় মহিলার সাক্ষাৎকার নেন সাংবাদিকরা। অপর দুই মহিলার নাম ছিল আইশা ও রাফেল্লা। স্টার্টনিউজ গ্লোবাল নামে এক ওয়েবসাইটে সেই সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। তার শিরোনাম ছিল 'খোরাসান ফাইলস : দি জার্নি অব ইন্ডিয়ান ইসলামিক স্টেট উইডোজ'।
নিমিশার বয়স এখন ৩০। তিনি কাসারগড়ে সেঞ্চুরি ডেন্টাল কলেজের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী ছিলেন। তাঁর সঙ্গে বেক্সিন ওরফে ইশার বিয়ে হয়। ২৬ বছরের মেরিন কোচির কলেজ থেকে কমিউনিকেটিভ ইংলিশ নিয়ে গ্র্যাজুয়েট হন। তাঁর সঙ্গে বেস্টিন ওরফে ইয়াহিয়ার বিয়ে হয়েছিল।
গত সোমবার নিমিশার মা বিন্দু সম্পত কেরল হাইকোর্টে আর্জি জানিয়ে বলেন, তাঁর মেয়েকে অবিলম্বে আফগানিস্তান থেকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা হোক। সেজন্য হাইকোর্ট যেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ও বিদেশমন্ত্রককে নির্দেশ দেয়। নিমিশার মেয়ে ফতিমা ইশার বয়স এখন চার বছর। তাকেও ফেরানোর জন্য বিন্দু আর্জি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে মেরিনের মা মিনি বলেছেন, তাঁর মেয়ে যদি ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখে, অতীতের কাজকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়, তবেই তাকে ফিরিয়ে নেবেন। তাঁর কথায়, "আমি সরাসরি মেয়ের মুখ থেকে শুনতে চাই, এখন তার অবস্থান কী। সে কি অনুতপ্ত?" মিনি মনে করেন, আইএসের মতো সংগঠনে যোগ দেওয়া অপরাধ। মেয়ে যদি এখনও সেই অপরাধীদেরই সমর্থন করে, তাহলে তার দেশে ফেরার দরকার নেই।