
শেষ আপডেট: 28 November 2023 22:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চুরির অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এরপর থানার মধ্যে চলে বেধড়ক মার! অভিযোগ, সেই মারের চোটেই অভিযুক্তর দু’টি কিডনি বিকল হয়ে গিয়েছে। আপাতত হাসপাতালে তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। ঘটনার পরই অভিযুক্ত যুবকের স্ত্রী সোজা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। অবশেষে মঙ্গলবার সেই মামলায় ইসলামপুর পুলিশ জেলা তথা উত্তর দিনাজপুরের পুলিশ সুপারের থেকে রিপোর্ট তলব করলেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত।
মামলার বয়ান সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় একটি কালী মন্দিরে চুরির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মহম্মদ সাজামল নামের ওই অভিযুক্তর বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইসলামপুর থানার পুলিশ। কিন্তু সাজামলকে না পেয়ে তাঁর স্ত্রীকে থানায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সাজামল স্ত্রীকে ছাড়াতে থানায় গেলে চুরির অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। তারপর চলে বেধড়ক মার।
তিনদিন পর সাজামলের স্ত্রী তথা মামলাকারী শবনাজ খাতুন জানতে পারেন তাঁর স্বামীকে ইসলামপুর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। সেখানে পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হতে শুরু করায় তাঁকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে রেফার করা হয়। শবনাজের দাবি, পুলিশের মারের চোটে তাঁর স্বামীর দু’টো কিডনিই বিকল হতে বসেছে। এরপরই তিনি কলকাতা হাইকোর্টে গিয়ে পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগ তুলে মামলা করেন। মঙ্গলবার ছিল সেই মামলার শুনানি।
এদিন বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর এজলাসে মামলার শুনানিতে মামলাকারীর হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী সৌরভ মণ্ডল ও আইনজীবী এম নাজার চৌধুরি। গোটা বিষয়টি শোনার পর উত্তর দিনাজপুরের পুলিশ সুপারকে রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। সেই সঙ্গে ঘটনার সময় অর্থাৎ ২০ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত থানার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের, অভিযুক্তর শারীরিক অবস্থা সংক্রান্ত রিপোর্ট ও কেস ডায়েরি পেশেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৭ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি।