দ্য ওয়াল ব্যুরো : দিল্লিতে আন্দোলনরত কৃষকরা বলেছেন, ১৪ ডিসেম্বর থেকে তীব্রতর হবে আন্দোলন। কিন্তু হরিয়ানার উপমুখ্যমন্ত্রী দুষ্যন্ত চৌতালা শনিবার বলেছেন, আর ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কৃষকরা সরকারের সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছবেন। চৌতালার জননায়ক জনতা পার্টির সমর্থকদের এক বড় অংশ কৃষক। কৃষক আন্দোলনের সময় তাঁকে নানা অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল। চৌতালা ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমরের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
এদিন চৌতালা বলেন, "আমি আশাবাদী যে, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কৃষকদের আলোচনা ফলপ্রসূ হবে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটা সিদ্ধান্তে আসবে দু'পক্ষই।" পরে তিনি বলেন, "আমি কৃষকদের প্রতিনিধি। আমি চাই কৃষকদের অধিকার রক্ষিত হোক। কেন্দ্রীয় সরকার ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে চলছে। আমি আশাবাদী, একটা সমাধানসূত্র খুঁজে পাওয়া যাবে।"
শুক্রবার চৌতালা বলেছিলেন, "আমাদের দলের সর্বভারতীয় সভাপতি পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, কৃষকদের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য পাওয়া নিশ্চিত করতেই হবে। কেন্দ্রীয় সরকার কৃষকদের লিখিত প্রতিশ্রুতিতে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের কথা বলেছিল। আমি যতক্ষণ ক্ষমতায় আছি, কৃষকদের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য পাওয়া নিশ্চিত করব। যদি এই প্রতিশ্রুতি রাখতে না পারি, তাহলে ইস্তফা দেব।"
পরে তিনি বলেন, "চৌধুরি দেবীলাল বলতেন, কৃষকরা যদি সরকারের শরিক হয়, কেবল তাহলেই সরকার তাদের কথা শোনে। আমি এবং আমার দল কৃষকদের দাবি নিয়ে সরকারের ওপরে চাপ দিচ্ছি। কেন্দ্রের মন্ত্রীদের সঙ্গে আমি নিয়মিত ফোনে কথা বলি। কীভাবে কৃষকদের সমস্যার সমাধান করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করি।"
কেন্দ্রীয় সরকারের বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিল করার দাবিতে ২৬ নভেম্বর থেকে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কৃষকরা। দিল্লি-হরিয়ানা সীমান্তে কয়েক হাজার কৃষক অবস্থান করছেন। মঙ্গলবার কৃষক সংগঠনগুলির ডাকে পালিত হয়েছে ভারত বন্ধ।
শনিবার বিকালে জানা যায়, রাজধানীর কয়েকটি টোল প্লাজা দখল করে নিয়েছেন কৃষকরা। গাড়িগুলি ফি না দিয়েই পেরিয়ে যাচ্ছে টোল প্লাজা। কৃষকরা জানিয়েছিলেন, ১৪ ডিসেম্বর থেকে আরও তীব্র আন্দোলনে নামবেন। কিন্তু তার আগেই দেখা যাচ্ছে, আন্দোলনকারীরা দিল্লিতে ঢোকা ও বেরোনর রাস্তাগুলিতে অবরোধ শুরু করছেন।
উত্তরপ্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগরে বেশ কয়েকটি টোল প্লাজায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কিন্তু কৃষকরা কার্যত টোল প্লাজাগুলি দখল করে আছেন। একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ৯১ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপরে একটি টোল প্লাজায় ফি না দিয়েই চলে যাচ্ছে একটি গাড়ি। ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের সমর্থকরা ওই টোল প্লাজা অবরোধ করে রেখেছেন।
এদিন বিকালে এক আন্দোলনকারী বলেন, "আমরা ১০০ জন চারটি টোল প্লাজায় এসেছি। সব গাড়ি ফি না দিয়েই বেরিয়ে যাচ্ছে। প্রথমে আমরা কুণ্ডলি-বুলন্দশহর এলাকার টোল প্লাজা অবরোঢ করেছিলাম। তারপর পালওয়াল-গাজিয়াবাদ টোল প্লাজায় এসেছি।" পুলিশকর্মীরা আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কৃষকরা পুলিশের কথা শোনেননি। একটি ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, টোল প্লাজায় গাড়িগুলিকে লক্ষ করে এক আন্দোলনকারী বলছেন, "জানে দো ইসে"।