দ্য ওয়াল ব্যুরো: যে সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলছেন যে তাঁরা নিজেদের রাজ্যে নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন বলবত করবেন না, তাঁদের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা মনে করিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবচেয়ে বেশি সরব এই আইনের বিরুদ্ধে। তিনি ইতিমধ্যেই ঘোষণা করে দিয়েছেন যে, এ রাজ্যেনাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন প্রয়োগ করতে দেবেন না। তাঁকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “আপনার অ্যাডভোকেট জেনারেলকে জিজ্ঞাসা করে দেখুন যে আপনি এটা করতে পারেন কিনা।”
শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ও পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিংও বলেছেন যে তাঁরা নিজেদের রাজ্যে এই আইন বলবত করতে দেবেন না।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এদিন বলেন, “কেউ কেউ বলছেন যে তাঁরা নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন কার্যকর করবেন না। আপনি মুখ্যমন্ত্রী। আপনি সংবিধানের নামে শপথ করেছেন। আপনারা জাতীয় পতাকার নীচে দাঁড়িয়ে – আর এই ধরনের কথা বলছেন? যাঁরা আইন জানেন অন্তত তাঁদের সঙ্গে কথা বলুন, যদি জনসমক্ষে বলতে না পারেন, অন্তত একান্তে কথা বলুন।”

তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, কংগ্রেস নেতা ও মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেলহট ও তরুণ গগৈকেও একহাত নিয়েছেন।
এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মনমোহন সিং যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন তিনি সংসদে বলেছিলেন, যাঁরা বাংলাদেশ থেকে এখানে আসছেন ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে, আমাদের উচিত তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া। যদি মোদী সেই কাজটাই করে, তা হলে সে খারাপ হয়ে যায়। তরুণ গগৈ, যিনি ১৫ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তিনি বলেছিলেন যাঁরা বাংলাদেশ থেকে আসছেন তাঁদের সাহায্য করা দরকার। একসময় রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী (অশোক) গেহলট বলেছিলেন যাঁরা ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার তাঁদের যেন সহায়তা করা হয়।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এখন তিনি তাঁর অবস্থান পুরো উল্টো করে ফেলেছেন। একদিন তিনিই বাংলাদেশ থেকে এ রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে বলেছিলেন এবং লোকসভায় “অধ্যক্ষের দিকে কাগজ ছুড়ে দিয়েছিলেন।” গত সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় যে ভিডিওটি টুইট করেছেন, সেটিকে অবশ্য ভুয়ো বলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইনের প্রতিবাদই করেননি, তিনি বলে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গে ন্যাশনাল রেজিস্ট্রি অফ সিটিজেনও হতে দেবেন না। এমনকি এই দুই বিষয়ের জন্য গণভোট নেওয়ার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। গত সপ্তাহে একটি জনসভায় তিনি বলেন, “শুধুমাত্র সংখ্যাধিক্যের জোরে যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন না।” এমনকি ক্ষমতা থাকলে এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপুঞ্জের অধীনে গণভোটের কথাও তিনি বলেন।
গণভোটের প্রসঙ্গটি তুলে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “আজ দিদি, মমতা দিদি, দিনি কলকাতা থেকে সোজা রাষ্ট্রপুঞ্জে পৌঁছে গেছেন।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য পরে বলেন যে তিনি আসলে জনমত নেওয়ার কথা বলতে গিয়েছিলেন। যদিও গণভোটের দাবি নিয়ে বিজেপি আক্রমণ শুরু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তারা বলতে শুরু করে, দেশের গণতন্ত্রের উপরে আস্থা নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
এদিন তাঁকে কটাক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মমতা দিদি, আপনাক কী হল? কেন আপনি অবস্থান বদল করলেন? কেন আপনি গুজব ছড়াচ্ছেন?” তিনি বলেন, “ক্ষমতা আসে, ক্ষমতা যায়। বাংলার মানুষের উপরে আস্থা রাখুন। ওঁরা আজ কেন আপনার শত্রু হয়ে যাচ্ছেন?”
২০১৪ সালে যেখানে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মাত্র দু’টি আসন পেয়েছিল বিজেপি, সেখানে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টি আসন পেয়েছে বিজেপি। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এ রাজ্য থেকে তৃণমূলকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসার কথা ভাবছে বিজেপি।