
শেষ আপডেট: 25 July 2018 02:33
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে, এথেন্স লাগোয়া সৈকতশহর মাতি গ্রামের একটি বাংলোর বাগান থেকে সেই ২৬টি অগ্নিদগ্ধ দেহ খুঁজে পান রেড ক্রসের কর্মীরা। সোমবার রাতেই ২৪টি দেহ অগ্নিদগ্ধ মিলেছিল। মঙ্গলবার রাতে মেলে আরও ২৬টা দেহ। মৃতদের মধ্যে ২২ জন শিশু–কিশোর। জখম কমপক্ষে ১৫০ জনের মধ্যে ১৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিধ্বংসী দাবানলে গ্রিসে মৃত অন্তত ৭৬। আহত দেড়শোরও বেশি। এই বিপর্যয়ে তোলপাড় সারা দেশ। ঘোষণা হয়েছে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক।
সোমবার স্থানীয় সময় বিকেলে প্রথম দাবানল লাগে উপকূলবর্তী অঞ্চল অ্যাটিকার পশ্চিমে, জেরানিয়া পর্বতের জঙ্গলে। সেই প্রকোপ সামলানোর আগেই অ্যাটিকার উত্তর-পূর্বে মাতির দিক থেকে দ্বিতীয় দাবানলটি ছড়ায়। পুলিশের অনুমান, প্রথম দাবানলের পরেই আতঙ্কিত মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়ি খালি রেখে চলে গেলে, ফাঁকা বাড়িতে লুঠপাটের উদ্দেশ্যে ঢুকে পড়ে দুষ্কৃতীরা। পালানোর আগে প্রমাণ লোপাট করতে ফের আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল ডাকাতরা। সেখান থেকেই আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।
শতাধিক দমকলকর্মী, ৩০টি দমকলের গাড়ি এবং হেলিকপ্টার নিয়ে উদ্ধারকাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। গোটা এলাকা জুড়ে শুধু উদ্ধারকর্মীদের চোখে পড়ছে। এই গ্রীষ্মে এই নিয়ে একাধিক দাবানলের সাক্ষী হল ইউরোপ।
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাস বলেছেন, এই দাবানল নিয়ন্ত্রণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার। জরুরি পরিষেবার সব ক’টি শাখাকেই দাবানল নিয়ন্ত্রণে এবং দুর্গতদের উদ্ধারে ব্যবহার করা হচ্ছে।
উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, মাতি বরাবরই গ্রিসের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। সোমবারও সেখানে প্রচুর ভিড় ছিল পর্যটকদের। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই অবসরপ্রাপ্ত এবং শিশু–কিশোর।
জোড়া দাবানলে গোটা এথেন্সের আকাশ ঘন কালো ধোঁয়া আর লালচে আভায় ঢেকে গিয়েছে। বন লাগোয়া বসতি এলাকাগুলি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত। বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে।
দাবানলকে এগোতে দেখে অনেক পর্যটক নৌকা নিয়ে সমুদ্রের গভীরে পালিয়ে যান। ১০ জন পর্যটকদের নিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে একটি নৌকো।