
শেষ আপডেট: 17 April 2023 10:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাত্রিবেলা একা একাই কমপ্লেক্সের সুইমিং পুলের ধারে খেলছিল তিন বছরের মেয়ে। আচমকাই পা পিছলে জলে পড়ে যায় সে। উপরতলায় বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা ১৮ বছরের তরুণীর চোখে পড়ে গিয়েছিল সেই দৃশ্য। সঙ্গে সঙ্গে হুড়মুড়িয়ে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে শিশুটিকে জল থেকে তুলে আনেন তরুণী। শুধু তাই নয়, মুখে মুখ লাগিয়ে শিশুটির শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্রিয়া স্বাভাবিক করে তাকে ফিরিয়ে আনলেন মৃত্যুর মুখ থেকে (rescue)।
ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) ঠানের বদলাপুর (Badlapur) এলাকায়। বুধবার রাত তখন ১১ টা হবে, মোহন তুলসী বিহার কমপ্লেক্সের ভিতরে সুইমিং পুলের কাছে একা একাই খেলছিল তিন বছরের অংশিকা কুমার। খেলতে খেলতেই আচমকা পুলের জলে পড়ে যায় সে।
সেই সময় পুলের পাশেই নিজের ফ্ল্যাটের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে ছিল ১৮ বছরের নিধি উমরানিয়া। তিনি প্রথম বর্ষের মিডিয়া ছাত্রী।
'আমি তখন বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম যখন দেখলাম, বাচ্চাটা, যে আমাদের কমপ্লেক্সেই অন্য বিল্ডিংয়ে থাকে, ও জলে পড়ে গেল। তখন রাত ১১টা বাজে, তাই আমি আগে বাবাকে ডাকি। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পরেই খেয়াল করি, জল থেকে বাচ্চাটা নড়াচড়ার কোনও আওয়াজ আসছে না। তখনই বুঝতে পারি যে ও ডুবে যাচ্ছে। আর দেরি না করে ওকে বাঁচাতে ছুটেই যাই আমি,' জানিয়েছেন নিধি।
তিনি আরও জানিয়েছেন, 'আমি যখন দেখলাম ও নড়াচড়া করছে না, তখন আমি ওর পেট চেপে শরীর থেকে জল বের করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তাতেও যখন দেখলাম কোনও লাভ হচ্ছে না, তখন আমি ওর নাকটা ধরে মুখের মধ্যে মুখ লাগিয়ে ফুঁ দিচ্ছিলাম। তারপরেই ওর চোখ খুলল।'
এরপরেই বাবা এবং প্রতিবেশী অনিল পাণ্ডের সাহায্যে অংশিকাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন নিধি। দুদিন সেখানেই চিকিৎসা চলার পর শনিবার ছেড়ে দেওয়া হয় শিশুটিকে।
অনিল পাণ্ডে জানিয়েছেন, সোসাইটির সুইমিং পুলটিতে জল না থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ ছিল সেটি। কিন্তু গরম পড়ে যাওয়ার কারণে দিন কয়েক আগেই সেটি নতুন করে খোলা হয়। কিন্তু পুলের ধারে কোনও রেলিং ছিল না, ছিল না নিরাপত্তা কর্মীও। সেই কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছেন অনিল। তবে এই ঘটনার পরেই সুইমিংপুলের চারপাশে রেলিং লাগানোর ব্যবস্থা করা হয়।
মেয়ের জীবন বাঁচানোর জন্য নিধির প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অংশিকার মা নীলিমা।