
শেষ আপডেট: 2 December 2022 11:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্ষণের জেরে অন্তঃসত্ত্বা (Pregnant by Rape) হয়ে পড়েছে ১৩ বছরের কিশোরী (13-year-old Pregnant)। গর্ভপাতের (Abortion) অনুমতি চেয়ে কার্যত দোরে দোরে ঘুরেও উপায় হয়নি। এই মুহূর্তে ৩১ সপ্তাহের গর্ভবতী সে, দিন গুনছে জেলা হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে। স্পষ্টতই গর্ভপাতের সময় পেরিয়ে গেছে তার। এখন কী হবে, সেই চিন্তাতেই ঘুম উড়েছে পরিবারের।
পুলিশ জানিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের কাছে কৌশাম্বি এলাকার এই ঘটনায় কিশোরীর প্রতিবেশী শিব মুরাত পাসি নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। নাবালিকা নির্যাতিতাকে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পুলিশ গ্রেফতার করেছে তাকে।
জানা গেছে, চলতি বছরের অগস্ট মাসে জানা যায় এই ধর্ষণের কথা। সে সময়ে সে কয়েক মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। তার পরেই থানায় অভিযোগ দায়ের করে, গর্ভপাতের জন্য নাবালিকাকে কৌশাম্বি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন তার বাবা। জানা যায়, ২৪ সপ্তাহের ভ্রূণ রয়েছে নাবালিকার পেটে। তাই আইন মেনেই গর্ভপাতে রাজি হননি চিকিৎসকরা। তাঁরা কিশোরীর বাবাকে বলেন, এই অবস্থায় গর্ভপাতের জন্য আদালতের অনুমতি লাগবে।
নাবালিকার বাবা জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের কথা শুনে আদালতে গর্ভপাতের অনুমতি চাইতে যান তিনি। মাঝে আরও কিছুটা সময় পেরিয়ে যায়, ২৯ সপ্তাহ হয়ে যায় গর্ভের ভ্রূণ। শেষমেশ বাবার আর্জি শোনে আদালত, ডেকে পাঠায় কৌশাম্বি জেলা হাসপাতালের প্রধান মেডিক্যাল অফিসার সুষ্পেন্দ্র কুমারকে। ১৫ অক্টোবর আদালত নির্দেশ দেয়, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বোর্ড গঠন করে সিদ্ধান্ত নিতে।
বোর্ড গড়ার পরে সিদ্ধান্ত নিতে গড়ায় আরও ২ সপ্তাহ। ৩১ সপ্তাহের প্রেগন্যান্সিতে পৌঁছে প্রধান মেডিক্যাল অফিসার আদালতকে জানান, স্বাভাবিক পদ্ধতিতে গর্ভপাত করা যাবে না আর, সময় পেরিয়ে গেছে। এখন গর্ভপাত করানোয় মায়ের প্রাণের ঝুঁকি রয়েছে। তবু যদি গর্ভপাত করাতেই হয়, তাহলে যে পরিকাঠামো প্রয়োজন, তা কৌশাম্বি জেলা হাসপাতালে নেই। তাকে প্রয়াগরাজের স্বরূপ রানি নেহরু হাসপাতালে পাঠাতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে আতান্তরে পড়েছে কিশোরীর পরিবার। নির্যাতিতার বাবার দাবি, এতগুলো দিন নষ্ট করেছে কৌশাম্বি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সে জন্যই আজ এমন জটিল পরিস্থিতি। তাঁর কথায়, 'হাসপাতালই আমায় বলল, আদালতের অনুমতি আনলে গর্ভপাত করানো যাবে মেয়ের। আমি সেটা আনার পরে বলছে অন্য হাসপাতালে যেতে হবে। সেখানেও যদি ঝুঁকি না নেয়, তাহলে আমরা কী করব? মেয়ের গর্ভপাত না হলে এই বাচ্চা কার পরিচয়ে বড় হবে? মেয়ের বিয়েই বা দেব কীভাবে?'
এসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। গর্ভপাতের সুযোগও মেলেনি। ফলে অবাঞ্ছিত ও অনাগত সন্তানের অপেক্ষায় দিন গুনছে কিশোরী।
নতুন বৌয়ের স্তন ছিঁড়ে নিতে গেল বরের প্রাক্তন প্রেমিকা! গাইঘাটায় নৃশংস কাণ্ড, গ্রেফতার মহিলা