দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিহত অ্যাপেল কর্মী বিবেক তিওয়ারির ময়না তদন্তের রিপোর্ট নিয়ে মতভেদ ছিলই। এ বার অভিযুক্ত দুই পুলিশ কনস্টেবল প্রশান্ত চৌধুরী ও সন্দীপের সমর্থনে কথা বলে চাকরি খোয়ালেন জামানিয়া থানার আরও দুই কনস্টেবল।
হাতে কালো ব্যান্ড পড়ে অভিযুক্ত দুই কনস্টেবলের সমর্থনে কথা বলেছিলেন কেশব দত্ত পাণ্ডে ও মহম্মদ সাদাব সিদ্দিকি। তাই দু’জনকেই বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজিপুরের এসপি যশবীর সিংহ।
রুটিন তল্লাশির সময়ে গাড়ি না-থামানোয় অ্যাপল সংস্থার ‘এরিয়া ম্যানেজার’ পদে থাকা বছর আটত্রিশের বিবেক তিওয়ারিকে গুলি করে খুন করার অভিযোগ ওঠে দুই পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে। গভীর রাতে এক মহিলা সহকর্মীকে নিয়ে বাইকে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন বিবেক। গোমতীনগর এক্সটেনশন এলাকায় সেই সময় রুটিন তল্লাশির দায়িত্বে ছিলেন কনস্টেবল প্রশান্ত চৌধুরি ও তাঁর এক সহকর্মী। বিবেকের খুনে অভিযুক্ত কনস্টেবল প্রশান্তের দাবি করেন, তিনি মোটবাইকটিকে থামতে বললেও সেটি চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। সে সময় গাড়ি নিয়ে তাঁরা বাইকটিকে থামানোর চেষ্টা করেন, বাইকে ধাক্কা লাগে গাড়ির। প্রশান্তর কথায়, তিনি গাড়ি থেকে পড়ে গেলে বিবেক তাঁর উপর দিয়েই গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষার জন্যই তিনি তখন গুলি চালান। গুলি লাগে বিবেকের ঘাড়ে।
এর পরেই বিবেকের মৃত্যু এনকাউন্টারে হয়েছে না এটা কোনও সংঘর্ষের ঘটনা সেই নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের শীর্ষ কর্তারা জানিয়ে দেন, এটা পুরোপুরি পুলিশ ম্যানুয়াল না মেনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনা। সিবিআই তদন্তের আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাতও। অন্যদিকে সম্পূর্ণ উল্টো সুরে গেয়ে রাজ্যের সেচমন্ত্রী ধর্মরাল সিংহ বিবেককে অপরাধী তকমা দিয়ে এনকাউন্টের ঘটনাতেই শিলমোহর দেন।
ময়না তদন্তের রিপোর্টে বলা হয় উপরের দিক থেকে কোনাকুনি এসেছিল গুলি লেগেছিল বিবেকের বাঁ দিকের চিবুকে। সেই দাবি উড়িয়ে দিয়ে সেই রাতের ঘটনার একমাত্র সাক্ষী, বিবেকের সহকর্মী সানা খান জানান খুব কাছ থেকেই গুলি করা হয়েছিল বিবেককে। এর আগে অভিযুক্ত কনস্টেবলদের হয়ে বিরূপ মন্তব্য করার জন্য এক পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল।