দ্য ওয়াল ব্যুরো: জীবনের দৌড় থামল মিলখা সিংয়ের। করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে বাড়িও ফিরেছিলেন। এরপর তাঁর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কম হওয়ায় মিলখা সিংকে আবার মোহালির এক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শারীরিক অবস্থা ক্রমেই তাঁর খারাপ হতে থাকে। শুক্রবার সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, তাঁর অবস্থা গুরুতর, জ্বর এসেছে ভালই, অক্সিজেন স্তরও কমছে। সেইসময়ই বোঝা গিয়েছিল, তিনি শেষ ল্যাপের দৌড় দিচ্ছেন! ৯১ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয় শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ। পরে যদিও তাঁর মৃত্যু ঘোষণা করা হয়।
এর মধ্যে আবার দিন পাঁচেক আগেই মিলখা-পত্নী নির্মল কৌরও প্রয়াত হয়েছিলেন। এদিন এই কিংবদন্তি ভারতীয় অ্যাথলিট সকলের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেলেন। এশিয়ান গেমসে চারবারের স্বর্ণপদক বিজয়ী এই বিখ্যাত অ্যাথলিটের বাড়ির পরিচারক করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন প্রথমে।
https://twitter.com/narendramodi/status/1405962664442949635
এরপর বাড়ির সবাইকেই কোভিড টেস্ট করানো হয়। কেবলমাত্র মিলখা সিংয়েরই পজিটিভ রিপোর্ট এসেছিল প্রথমে। পুত্র জীব মিলখা সিংহ ছাড়াও মিলখা রেখে গেলেন তিন মেয়ে মোনা সিংহ, আলিজা গ্রোভার এবং সোনিয়া সানওয়ালকাকে। এদিন রাতে পুত্র জিব মিলখাই প্রথম বাবার জীবনাবসানের খবর জানান।
১৯২৯ সালের ২০ নভেম্বর জন্ম মিলখার পাকিস্তানের গোবিন্দপুরায়। দেশ ভাগের সময় দাঙ্গায় পরিবারের অনেকেই মারা যান। পাকিস্তান থেকে ভারতে চলে আসেন দিদির কাছে। উদ্বাস্তু শিবিরে থাকেন বেশ কিছুদিন। সেনাবাহিনীতে চাকরির চেষ্টা করতে করতে অ্যাথলিট হয়ে ওঠা তাঁর। সেনাবাহিনীরই কোচের নজরে পড়ে যান। ১৯৫৯ সালে পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করা হয় তাঁকে।
https://twitter.com/MamataOfficial/status/1405966425768882178
মিলখা সিংয়ের মৃত্যুতে ক্রীড়ামহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সারা দেশ গভীর রাতে তাঁর মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পরে ব্যথিত হয়ে উঠেছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাতেই সাড়ে বারোটা নাগাদ টুইট করে জানান, ‘‘মিলখা সিংহের প্রয়াণে আমরা বড়মাপের ক্রীড়াবিদকে হারালাম, যিনি দেশের স্বপ্নকে ধরতে পেরেছিলেন। অসংখ্য ভারতীয়র হৃদয়ে বিশেষ স্থান অধিকার করেছিলেন তিনি। তাঁর ব্যক্তিত্ব তাঁকে কোটি কোটি মানুষের মনে জায়গা করে দিয়েছিল। তাঁর প্রয়াণে গভীর শোকাহত।’’
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও রাতেই টুইট করে তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন ও তাঁর পরিবারকে এই শোকের দিনে সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি টুইটে লেখেন, ‘‘মিলখা সিংহের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ। তিনি একজন কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ ছিলেন। তিনি সব সময় আমাদের হৃদয়ে থাকবেন। তাঁর পরিবার, প্রিয়জন ও অনুরাগীদের সমবেদনা জানাই।’’
১৯৫৬ সালের মেলবোর্ন অলিম্পিকে মিলখা অংশ নিলেও ব্যর্থই হয়েছিলেন। দু’বছরের মধ্যে নিজেকে তৈরি করে ফেলেন কঠোর প্রস্তুতির মাধ্যমে। ১৯৫৮ সালে কার্ডিফ কমনওয়েলথ গেমসে হইচই ফেলে দেন মিলখা ৪৪০ মিটার ইভেন্টে সোনা জিতে। সেটাই ছিল স্বাধীন ভারতে কোনও ভারতীয় অ্যাথলিটের প্রথম সোনা জয়। অলিম্পিকে সোনা জয়ের স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলেন সেবারই। ১৯৫৮ সালেই টোকিও এশিয়ান গেমসে ২০০ ও ৪০০ মিটারে সোনা জিতেছিলেন। ১৯৬২ সালের জাকার্তা এশিয়াডেও ছিল জোড়া সোনা।
মিলখাকে ভারত তো বটেই, সারা বিশ্ব মনে রেখেছে ১৯৬০ সালের রোম অলিম্পিকের জন্য। ৪০০ মিটার রেসের ফাইনালে উঠেছিলেন তিনি। ওটিস ডেভিস, কার্ল কফম্যানদের পাশে সমান উজ্জ্বল ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত চতুর্থ হয়েছিলেন ফেভারিট মিলখা। তবে ভারতীয় অ্যাথলিটকে সে দিন চিনে নিযেছিল সারা বিশ্ব। ৪৫.৭৩ সেকেন্ডে মিলখার ওই দৌড় অনেক দিন জাতীয় রেকর্ড হিসেবে অক্ষুন্ন ছিল।