দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের ক্রিকেট বোর্ডে নতুন কমিটি গড়ে ওঠার পর এই প্রথম বার্ষিক সাধারণ সভার বৈঠক হতে চলেছে রবিবার। এই বৈঠকে একাধিক বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে বোর্ড সূত্রে খবর। অর্থাৎ ভারতীয় ক্রিকেটের দৃষ্টিভঙ্গিতে সাম্প্রতিক অতীতে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বোর্ড।
সৌরভ বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় জানা গিয়েছিল, এই পদে তাঁর মেয়াদ মাত্র ১১ মাস। কারণ তার আগে পাঁচ বছর বাংলার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি। তাই লোধা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ছ'বছর পর তিন বছরের জন্য কুলিং অফ পিরিয়ডে যেতে হবে তাঁকে। একই সময় রয়েছে বোর্ড সচিব জয় শাহর কাছে। তাই সেই নিয়মে বদল আনতে পারে বোর্ড। এছাড়াও আরও কিছু বিষয় রয়েছে।
রবিবারের বৈঠকে প্রধান কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে তা একবার দেখে নেওয়া যাক।
সৌরভ-জয় শাহর সময়সীমা: বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট হিসেবে ১১ মাস সময়টা যে খুবই কম তা জানেন সবাই। তাই দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একাধিক কাজ শুরু করে দিয়েছেন তিনি। তার মধ্যে অন্যতম হল ভারতে প্রথম গোলাপি বলের টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করা। কিন্তু এই সময়সীমা বাড়াতে চাইছেন তাঁরা। এই বিষয় তোলা হবে বৈঠকে। প্রস্তাব দেওয়া হবে প্রশাসনের সঙ্গে ছ'বছর যুক্ত থাকার বদলে জাতীয় ও রাজ্য প্রশাসনে আলাদাভাবে ছ'বছর করে যুক্ত থাকার পরেই কুলিং অফ পিরিয়ডে যেতে হবে কাউকে। এই নিয়ম কার্যকর হয়ে গেলে সৌরভদের সামনে ছ'বছর সময় থাকবে।
আইসিসি বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব: এর আগে ৩৩ মাস সুপ্রিম কোর্টের দায়িত্বে ছিল বিসিসিআই। কোর্ট নিযুক্ত প্রশাসনিক কমিটি সব কাজ দেখাশোনা করত। তারাই ঠিক করত ভারতের হয়ে আইসিসি বৈঠকে কে প্রতিনিধিত্ব করবে। সেই দায়িত্ব এবার বোর্ডের হাতেই নিতে চাইছেন সৌরভরা। সেই প্রস্তাবও রাখা হবে।
উপদেষ্টা কমিটি ফিরিয়ে আনা: একসময় বিসিসিআইয়ের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ছিলেন সৌরভ, শচীন ও লক্ষ্মণ। কিন্তু পরে এই কমিটি তুলে নেয় সুপ্রিম কোর্ট। নতুন করে এই কমিটি ফিরিয়ে আনার চিন্তাভাবনা হচ্ছে। সেরকম হলে শচীন ও লক্ষ্মণকে ফের উপদেষ্টা কমিটিতে ফিরিয়ে আনার চিন্তাভাবনা হচ্ছে।
স্বার্থের সংঘাত নিয়ে আলোচনা: গত কয়েক বছরে ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনকে সবথেকে বেশি সমস্যায় ফেলেছে স্বার্থের সংঘাত। এই বিষয়ে গুরুতর আলোচনা হওয়ার কথা। এছাড়া একজন অম্বুডসম্যান ও একজন এথিক্স অফিসার নিয়োগ করার ব্যাপারেও আলোচনা হবে। এতদিন এই কাজ করতেন বিচারপতি ডি কে জৈন।
বোর্ডের হাতে ক্ষমতা আনা: গত প্রায় ৩৩ মাস ধরে বোর্ডের সব দায়িত্ব ছিল সুপ্রিম কোর্টের হাতে। সেই দায়িত্ব নিজেদের হাতে নিতে চাইছে বোর্ড।
আগামীকালের বৈঠকে তিন-চতুর্থাংশ সদস্যের সম্মতি থাকলেই প্রস্তাব পাশ হয়ে যাবে। সেই অনুযায়ী পরিবর্তন আনা হবে বোর্ডের সংবিশানে। বোর্ড সূত্রে খবর, সদস্যরাও চাইছেন এই সব পরিবর্তন হোক। এখন দেখার বৈঠকের পরে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।