দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই সেদিনও সুস্থই ছিলেন, ফুটবল নিয়ে আলোচনায় ছিলেন সপ্রতিভ। সেই মানুষটাই সপ্তাহ খানেক আগে প্রবল জ্বরে আক্রান্ত হন। হতে থাকে শ্বাসকষ্ট, পাশাপাশি অক্সিজেন স্তর কমতে থাকে শরীরে। পরিবার থেকে আর দেরি করা হয়নি। দ্রুত ভারতের কিংবদন্তি প্রাক্তন গোলরক্ষক ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়কে বাইপাসের ধারে অ্যাপেলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার গভীর রাতে তাঁকে হাসপাতালের আইসিইউ-তে ভর্তি করানো হয়। মঙ্গলবার সকালে তাঁকে কার্ডিওলোজি বিভাগে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। পরিবার পাশেই রয়েছেন। যোগাযোগ রাখা হয়েছে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের তরফেও, যে ক্লাবকে তিনি সারা জীবন মন্দির হিসেবে দেখে এসেছেন।
ভাস্করের ছায়াসঙ্গী আরও এক নামী তারকা, প্রখ্যাত কোচ শঙ্করলাল চক্রবর্তীও জানালেন, ‘‘ভাস্করদা ভালই রয়েছেন, ওঁর রিপোর্ট আমি দেখেছি, করোনা নেগেটিভ, ভয়ের ব্যাপার নেই। তবে চিকিৎসকরা তাঁকে এখনও সপ্তাহ খানেক পর্যবেক্ষণে রাখবেন।’’
ভাস্করের এমনিতেই পার্কিনসন রোগ রয়েছে, তাঁর শরীর কাঁপে, কথা বলতে গেলেও হাঁফিয়ে যান। তাই চিকিৎসকরাও তাঁকে নানা বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন। কিন্তু অতীতের সেই ডাকাবুকো গোলরক্ষক মাঠের বাইরেও সমান মেজাজী। পরিবার থেকে তাঁকে ভিড়ের মধ্যে যেতে নিষেধ করা হলেও তিনি সব অনুষ্ঠানেই বাইরে যান। এমনকি সম্প্রতি ইস্টবেঙ্গলের পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে ‘গাছ লাগান, প্রাণ বাঁচান,’ প্রকল্পেও হাজির ছিলেন।
ভাস্কর মানেই কলকাতা ময়দানের চলমান ইতিহাস। তিনি কেন প্রখ্যাত, সেটি তাঁর পরিসংখ্যান নয়, খেলোয়াড়ি মেজাজেও প্রকাশ পেত। তিনি ভারতের অধিনায়কও হয়েছিলেন। খেলেছেন এশিয়ান গেমস ফুটবল ও মারদেকা ফুটবলেও। তিনি মোহনবাগানের পাঁচ গোল খাওয়া ম্যাচে গোলরক্ষক ছিলেন। সেই ভাস্করই পরবর্তীকালে দেশের একনম্বর গোলরক্ষকের মর্যাদা পেয়েছিলেন।
তাঁর অসুস্থ হওয়ার খবর জেনে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসহ প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি যোগাযোগ রাখছেন নামী গোলরক্ষকের পরিবারের সঙ্গে। তাঁর বন্ধুরাও পাশেই রয়েছেন ষাটোর্ধ্ব এই গোলরক্ষকের।