
শেষ আপডেট: 15 July 2022 06:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা সময় মনে খুবই দুঃখ ছিল অ্যাডামের (Adam Rainer)। হাজার চেষ্টা করেও কিছুতেই বাড়ছিল না উচ্চতা (Height)। শুধু যে লোকজনের হাসাহাসি সহ্য করতে হয়, তা তো নয়, সেনাবাহিনীর সাধের চাকরিতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছাও ত্যাগ করতে হয়েছিল শুধু কম উচ্চতার জন্যই। সেখানকার চিকিৎসকরা তো সরাসরি 'বামন'ই (Dwarf) বলে দিলেন! তবে অ্যাডামের কপালে ছিল অন্য কিছু। একদিন আচমকাই এমন উচ্চতা বাড়ল তাঁর, পরিচিত সব লম্বা মানুষকে ছাপিয়ে গেলেন তিনি।
অ্যাডাম রেইনার ছিলেন ইতিহাসের প্রথম মানুষ, যিনি প্রথম জীবনে খর্বাকৃতি থাকলেও পরবর্তী জীবনে দৈত্যাকার চেহারার অধিকারী হয়েছিলেন। ১৮৯৯ সালে অস্ট্রিয়ার গ্রাজ শহরে জন্ম তাঁর। যখন তাঁর ১৮ বছর বয়স, তখন চলছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। সেই সময় অ্যাডাম গেলেন সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে। কিন্তু তাঁকে দেখা মাত্রই ফেরত পাঠিয়ে দিলেন সেখানকার ডাক্তার। অ্যাডামের উচ্চতা যে তখন মাত্র ৪ ফুর্ট ৬ ইঞ্চি! তবে দমলেন না অ্যাডাম। এক বছরে ২ ইঞ্চি উচ্চতা বাড়িয়ে আবার গেলেন পরীক্ষা দিতে। কিন্তু এবারেও পাশ করা হল না। উচ্চতা এখনও প্রয়োজনের তুলনায় কম তো বটেই, তার উপর অত্যাধিক রোগা। এবার 'দুর্বল' তকমা লাগল তাঁর গায়ে।

সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া হল না ঠিকই, কিন্তু একটা আশ্চর্য বিষয় নজর এড়াল না কারওরই। বেঁটে হলেও অ্যাডামের হাত পায়ের দৈর্ঘ্য ছিল অস্বাভাবিক বেশি। শুধু তাই নয়, এক বছরে তাঁর পায়ের পাতার সাইজ বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। তাঁর আশ্চর্য বৃদ্ধি তখন সবারই চোখে পড়তে শুরু করেছে। এরপর ঘটল আরও অবাক করা ঘটনা। সাধারণত যে বয়সে শারীরিক বৃদ্ধি থেমে যায় মানুষের, ঠিক তার পর থেকেই হু হু করে উচ্চতায় বাড়তে শুরু করলেন অ্যাডাম। চেনা পরিচিত সবাইকে উচ্চতায় ছাপিয়ে গেলেন তিনি। তাঁর যখন ৩৩ বছর বয়স, তখন দেখা গেল, এককালের বেঁটে অ্যাডামের উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ৭ ফুট ২ ইঞ্চিতে। ক্রমশ বেঁকে যেতে শুরু করেছে মেরুদণ্ডও।
অ্যাডামের বাবা মা দুজনেই কিন্তু স্বাভাবিক উচ্চতার মানুষ ছিলেন। তাঁরা কিছুতেই বুঝতে পারছিলেন না, এমন অসম্ভব ব্যাপার ঘটল কীভাবে। ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলেও এই ঘটনার ব্যখ্যা দিতে তাঁরাও প্রথমে হিমশিম খেয়ে গেলেন। তবে বেশ কিছু পরীক্ষার পর সামনে এল আসল কারণ। আসলে গ্রোথ হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণজনিত রোগ 'জাইগ্যান্টিজম' বা অতিকায়ত্বের শিকার ছিলেন অ্যাডাম। তাঁর পিটুইটারি গ্ল্যান্ডের উপর বেশ কিছুদিন ধরেই বড় হচ্ছিল একটি টিউমার। আর সেই কারণেই মানুষের শারীরিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক গ্রোথ হরমোন অতিরিক্ত পরিমাণে নিঃসৃত হচ্ছিল। তার জেরেই রাতারাতি এমন দৈত্যাকার চেহারার মালিক হয়ে বসেন অ্যাডাম।

অ্যাডামকে এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে অস্ত্রোপচার করে টিউমারটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সফল হয়েছিল অস্ত্রোপচার। রুখে দেওয়া গিয়েছিল অ্যাডামের বৃদ্ধি। তবে ততদিনে তাঁর শিরদাঁড়া বেঁকে গেছে অনেকটাই। সেটা আর সোজা করা যায়নি। মেরুদণ্ড ধীর গতিতে বাড়তে থাকায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন অ্যাডাম। তাঁর বাকদবাকি জীবন কেটেছে বিছানাতেই। আস্তে আস্তে হারিয়ে যায় চোখ দেখা, কানে শোনার ক্ষমতা। মাত্র ৫১ বছর বয়সেই চিরঘুমে ঢলে পড়েন পৃথিবীর ইতিহাসে একই জীবনে অস্বাভাবিক বেঁটে এবং দৈত্যাকার লম্বা প্রথম মানুষ। সেই সময় তাঁর উচ্চতা ছিল ৭ ফুট ৮ ইঞ্চি!
বিশ্বযুদ্ধের হাতিয়ার উল-কাঁটা! গুপ্তচরের সংকেত লেখা হয়েছে এই দিয়েই, জানুন দুর্দান্ত কাহিনি