Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
প্রথম পর্বে দেখা হবে না রাম-রাবণের! ‘রামায়ণ’ নিয়ে ভক্তদের মন ভেঙে দিলেন ‘টক্সিক’ যশনববর্ষ উদযাপনের মাঝেও মনখারাপ! দিনের শুরুটা কীভাবে কাটালেন ঋতুপর্ণা?গীতা ও চণ্ডীতে যেভাবে নিজের স্বরূপ প্রকাশ করেছেন ভগবান৭ শতাংশ ফ্যাট, ৫০ শতাংশ পেশি! যে ডায়েট মেনে চলার কারণে রোনাল্ডো এখনও যন্ত্রের মতো সচলগুগল এখন অতীত, AI দেখে ওষুধ খাচ্ছেন মানুষ! বেশিরভাগ রোগ চিনতে না পেরে জটিলতা বাড়াচ্ছে চ্যাটবট 'ডাহা মিথ্যে তথ্য দিয়েছে রাজ্য', সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি পিছতেই ক্ষুব্ধ ভাস্কর ঘোষBasic Life Support: চলন্ত ট্রেনে ত্রাতা সহযাত্রীই! সিপিআরে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন মহিলামহিলা বিল পেশ হলে রাজ্য অচলের ডাক স্ট্যালিনের, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে কেন ষড়যন্ত্র বলছে ডিএমকে আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের মহারণ! উদ্দীপ্ত এমিরেটসের কতটা ফায়দা নিতে পারবে আর্সেনাল? দ্রুত রোগা হওয়ার ইনজেকশন শেষ করে দিচ্ছে লিভার-কিডনি? ভুয়ো ওষুধ নিয়ে সতর্ক করলেন চিকিৎসকরা

ভারতের সর্বকনিষ্ঠ মহিলা সমাজসেবী, কেদারনাথে বাঁচিয়েছিল দুটি প্রাণ

রূপাঞ্জন গোস্বামী হিমালয়ের বিখ্যাত চারধামের মধ্যে একটি হল 'কেদারনাথ'। দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের একটির অবস্থান এই কেদারনাথেই। ঋষিকেশ থেকে ২২৩ কিলোমিটার দূরে, গাড়োয়াল হিমালয়ের বুক চিরে বয়ে চলা মন্দাকিনী নদীর তীরে অবস্থিত বিশ্ববিখ্যাত কেদারনাথ মন

ভারতের সর্বকনিষ্ঠ মহিলা সমাজসেবী, কেদারনাথে বাঁচিয়েছিল দুটি প্রাণ

শেষ আপডেট: 2 December 2020 03:50

রূপাঞ্জন গোস্বামী

হিমালয়ের বিখ্যাত চারধামের মধ্যে একটি হল 'কেদারনাথ'। দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের একটির অবস্থান এই কেদারনাথেই। ঋষিকেশ থেকে ২২৩ কিলোমিটার দূরে, গাড়োয়াল হিমালয়ের বুক চিরে বয়ে চলা মন্দাকিনী নদীর তীরে অবস্থিত বিশ্ববিখ্যাত কেদারনাথ মন্দির। মন্দিরের পিছনে দাঁড়িয়ে আছে তুষারাচ্ছাদিত কেদারনাথ (২২,৭৬৯ ফুট) ও কেদারডোম (২২,৪১১ ফুট) ও অনান্য পর্বতশৃঙ্গের দল। তুষারমৌলি হিমালয়ের নয়নাভিরাম নৈসর্গিক দৃশ্যের মাধ্যমেই যে তীর্থযাত্রীর ক্লান্তিহরণ করেন বাবা কেদারনাথ। [caption id="attachment_282066" align="alignnone" width="770"] কেদারনাথ মন্দির[/caption] সাধারণত এপ্রিল মাসের শেষে (অক্ষয় তৃতীয়ার আগে) দর্শনের জন্য খুলে দেওয়া হয় কেদারনাথ মন্দিরটি এবং নভেম্বরে (কার্তিক পূর্ণিমার পর) বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারণ নভেম্বরের শেষ থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত, বরফের পুরু স্তরে ঢেকে যায় কেদারনাথ মন্দির ও সংলগ্ন অঞ্চল। এই সময় বিগ্রহকে ডুলিতে করে কেদারনাথ থেকে নামিয়ে আনা হয় গুপ্তকাশীর কাছে থাকা উখিমঠে। সেখানেই কেদারনাথজীর নিত্যপূজা করা হয়। সারা গ্রীষ্মকাল কেদারনাথে থাকা পঞ্চান্নটি গ্রামের সাড়ে তিনশো পরিবারের সদস্যেরাও নেমে আসেন বিগ্রহের সঙ্গেই। জনমানবহীন তুষার সমুদ্রে পরিণত হয়ে কেদারনাথ। [caption id="attachment_282068" align="alignnone" width="600"] শীতের কেদারনাথ[/caption]  কেদারনাথে দাপট দেখায়  খামখেয়ালি আবহাওয়া হিমালয়ের বুকে ঘটা অন্যতম বৃহৎ দুর্ঘটনার সাক্ষী এই কেদারনাথ। ২০১৩ সালের ১৬ই জুন ও ১৭ই জুনের ধস ও চোরাবালি তালের প্লাবনে প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রায় ৫০০০ তীর্থযাত্রী। শীতের মতো গ্রীষ্ম ও বর্ষাতেও মাঝে মাঝে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে কেদারনাথের আবহাওয়া। তাপমাত্রা যখন তখন নেমে যায় শূন্যের নীচে। যখন তখন হতে পারে তুষারপাত। গায়ে ঢিলের মতোই আঘাত করে কেদারনাথের মোটা দানার বৃষ্টি। বইতে পারে জোরালো হাওয়া যা তাপমাত্রা কমিয়ে দেয় কয়েক মুহূর্তেই। এহেন তীর্থক্ষেত্রে ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসেন তীর্থযাত্রীরা। যাঁদের বেশিরভাগের বয়েস ৪৫ থেকে ৭৫ বছরের মধ্যে। গৌরীকুণ্ড (৬৫০২ ফুট) থেকে রামওয়াড়া ব্রিজ, জঙ্গল চটি, ভীমবল, লিঞ্চোলি পেরিয়ে আরও উচ্চতায় থাকা কেদারনাথে (১১,৭৫৯ ফুট)উঠে আসেন তাঁরা। তীর্থযাত্রীদের পায়ে হেঁটে পার হতে হয় অত্যন্ত কষ্টসাধ্য চোদ্দ কিলোমিটার। উঠে আসতে হয় গৌরীকুণ্ড থেকে ৫২৫৭ ফুট ওপরে। যেখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে সমতলের বেশিরভাগ মানুষই পরিচিত নন। ফলে বিভিন্ন উচ্চতাজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হন তাঁরা। তীর্থযাত্রীদের এই অবস্থা সামাল দেওয়ার জন্য পথের বিভিন্ন যায়গায় থাকে মেডিক্যাল ক্যাম্প। তবুও আটকানো যায় না কিছু মৃত্যু। উচ্চতা ও আবহাওয়ার সঙ্গে যুঝতে না পেরে বা প্রবল ক্লান্তির কারণে কেদারনাথে প্রতিবছরই বেশ কিছু তীর্থযাত্রীর মৃত্যু হয়। ২০১৯ সালের ২ জুন পুরোদমে শুরু হয়েছিল বাবা কেদারের দর্শন। মন্দিরের সামনে থাকা দর্শনার্থীদের লাইনটি সেদিন শেষ হয়েছিল প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে গিয়ে। লাইনটির এগোনোর গতিও ছিল অত্যন্ত শ্লথ। দর্শনার্থীদের লাইনের পাশে ঘুরঘুর করছিল একটি তেরো বছরের মেয়ে। খুব আস্তে আস্তে হাঁটছিল সে। প্রত্যেকটি মানুষের মুখ খুঁটিয়ে দেখতে দেখতে এগিয়ে যাচ্ছিল সে। সবাই ভেবেছিল বালিকাটি তার বাবা মাকে হারিয়ে ফেলেছে। তাই কেউ কেউ মেয়েটিকে বলেছিলেন পুলিশের কাছে যেতে। দয়াপরবশ হয়ে কেউ কেউ সাহায্য করতেও চেয়েছিলেন বালিকাটিকে। কিন্তু কারও কথা কানে তুলছিল না বালিকাটি। লাইন থেকে টিপ্পনি ভেসে এসেছিল "খুব জেদি মেয়ে তো!" কিন্তু লাইনে দাঁড়ানো দর্শনার্থীরা জানতেন না, তাঁদের বাঁচানোর জন্যেই গোপন মিশনে বেরিয়েছে তেরো বছরের পরিকূল ভরদ্বাজ। দর্শনার্থীদের মুখ দেখে পরিকূল বুঝতে চাইছিল লাইনে দাঁড়ানো দর্শনার্থীদের মধ্যে কাকে অসুস্থ মনে হচ্ছে। কাউকে অসুস্থ মনে হলেই পরিকূল জিজ্ঞেস করবে, আপনি কি নিয়মিত কোনও ওষুধ খান? আজ খেয়েছেন? মানুষটিকে ওষুধ খাওয়ার কথা মনে করিয়ে দিত। লাইনে দাঁড়ানো কোনও মানুষকে অসুস্থ মনে হলেই পরিকূল ঝাঁপিয়ে পড়বে মানুষটিকে সুস্থ করে তোলার কাজে। সেচ্ছাসেবকদের সাহায্যে অসুস্থ মানুষটিকে পরিকূল নিয়ে যাবে তাঁদের মেডিক্যাল ক্যাম্পে। যেখানে অসুস্থ তীর্থযাত্রীদের চিকিৎসা করেন পরিকূলের চিকিৎসক বাবা মা। ২০০৯ সাল থেকে ভরদ্বাজ দম্পতি কেদারনাথে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে আসছেন। [caption id="attachment_282074" align="alignnone" width="1280"] পরিকূল ভরদ্বাজ[/caption] অনেক সময় অসুস্থ মানুষটির শারীরিক অবস্থার কথা বিচার করে ও পরিস্থিতি বুঝে নিজেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া শুরু করে একরত্তি পরিকূল ভরদ্বাজ। পরিকূলের ওপর ভরসা রাখেন তাঁর বাবা মা, ভরসা রাখেন কেদারনাথের মানুষেরাও। কারণ তেরো বছরের পরিকূলকে মাউন্টেন মেডিসিন, বিপর্যয় মোকাবিলা ও উদ্ধারকার্যের ট্রেনিং দিয়েছে ইন্দোটিবেটিয়ান বর্ডার পুলিশ, ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স ও এয়ারফোর্স। এছাড়াও এই বয়েসেই পরিকূল দক্ষ ও প্রশিক্ষিত পর্বতারোহী। অবসর সময়ে ক্যামেরা নিয়ে সে একাই ঘুরে বেড়ায় কেদারনাথ মন্দিরের আশেপাশের পাহাড়ে। গরমের ছুটির পঁয়তাল্লিশ দিন, দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের সেন্ট মেরি স্কুলে ক্লাস নাইনে পড়া মেয়েটির এটাই রুটিন। মানুষের সেবা করার টানেই ২০১৭ সাল থেকে বাবা মায়ের সঙ্গে চলে আসে কেদারনাথ। [caption id="attachment_282076" align="alignnone" width="570"] পরিকূল[/caption] সেদিনও দর্শনার্থীদের লাইনের পাশ দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল পরিকূল। জ্যাকেট ও প্যান্টের পকেট বোঝাই ওষুধ। হাতের ব্যাগে জলের বোতল। অতর্কিতে খারাপ হতে শুরু করেছিল আবহাওয়া। ঘন কুয়াশায় ঢেকে গিয়েছিল চারদিক। প্রবল ঠান্ডায় কাঁপতে শুরু করেছিলেন দীর্ঘক্ষণ ধরে লাইনে অপেক্ষারত তীর্থযাত্রীরা। প্রায় পঞ্চাশজন মানুষ একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তৎপর হয়ে উঠেছিল বিভিন্ন মেডিক্যাল টিমের চিকিৎসক ও সেচ্ছাসেবকেরা। কিন্তু অসুস্থ তীর্থযাত্রীরা কেউ লাইন ছাড়তে চাইছিলেন না। কারণ তাঁরা জানতেন একবার লাইন ছেড়ে বেরিয়ে গেলে এ যাত্রায় আর কেদার দর্শন হবে না। কারণ সুস্থ হওয়ার পর আবার দাঁড়াতে হবে পাঁচ হাজার মানুষের পিছনে। তাই লাইনে দাঁড়িয়েই চিকিৎসা করার জন্য জোর করছিলেন অসুস্থ তীর্থযাত্রীরা। কাউকে কাউকে জোর করে ক্যাম্পে উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন সেচ্ছাসেবকেরা। [caption id="attachment_282081" align="alignnone" width="1080"] আবহাওয়া যখন তখন বদলে যেতে পারে[/caption] দর্শনার্থীদের লাইন ধরে নীচে নামতে নামতে পরিকূল দেখতে পেয়েছিল এক দেহাতি মহিলাকে। যিনি লাইনে বসে পড়েছিলেন। মহিলাটির চোখ দুটি ঘোলাটে হয়ে গিয়েছিল। হাঁ করে বড় বড় শ্বাস নিচ্ছিলেন মহিলাটি। ঠোঁটের কোণে দেখা দিয়েছে ফেনা। মুখ লাল হয়ে গিয়েছিল। মহিলাটির স্বামী তাঁকে টেনে দাঁড় করাবার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তিনিও ক্রমশ এলিয়ে পড়ছিলেন। পরিকূল বুঝতে পারছিল মহিলাটির স্বামীও অসুস্থ। দু'জনকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তেরো বছরের মেয়েটি। তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে গিয়েছিল দুজনের। মহিলার অবস্থা ছিল সবচেয়ে খারাপ। তবুও দম্পতি লাইন ছাড়তে চাইছিলেন না। অনেক কষ্টে দুজনকেই বুঝিয়ে লাইন থেকে বের করে এনেছিল বালিকা পরিকূল। তারপর নিজেই প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেছিল। অসুস্থ মহিলাটি প্রবল ঠান্ডার কারণে গায়ে চাপিয়েছিলেন বেশ কয়েকটি শীতের পোশাক। সবার আগে পরিকূল কয়েকটি শীতের পোশাক খুলে দিয়েছিল। পাথরে হেলান দিয়ে বসিয়ে মহিলাটির উপসর্গ অনুযায়ী ওষুধ দিয়েছিল। ওষুধ দিয়েছিল মহিলাটির স্বামীকেও। সামান্য সুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলেও, আবহাওয়ার কারণে কিছুক্ষণ পরে আবার মহিলাটি ও তাঁর স্বামীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। প্রতিকূল বুঝতে পেরেছিল এই উচ্চতায় তাঁদের আর একমুহূর্ত রাখা যাবে না। দেড় কিলোমিটার দূরে থাকা বাবার মেডিক্যাল ক্যাম্পে নিয়ে যেতে যেতেই মানুষ দুটি মারা যাবেন। মৃত্যুপথযাত্রী দম্পতির জন্য হেলিকপ্টার রেসকিউয়ের ব্যবস্থা করেছিল পরিকূল। কেদারনাথের দয়ায় সামান্য কিছুক্ষণের জন্য ভালো হয়ে গিয়েছিল আবহাওয়া। দম্পতিকে নিয়ে নিরাপদ উচ্চতায় নামিয়ে নিয়ে গিয়েছিল হেলিকপ্টার। সরকারী ব্যবস্থাপনায় শুরু হয়েছিল চিকিৎসা। বেশ কয়েক ঘণ্টা কোনও কাজে মন দিতে পারেনি পরিকূল। একসময় খবর এসেছিল, পরিকূলের দেওয়া ওষুধ ও সময়োচিত সিদ্ধান্তের জন্য বেঁচে গিয়েছে দুটি প্রাণ।  পরিকূলকে কুর্নিশ জানিয়েছে ভারত এই বছর, অর্থাৎ ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি সাহসিকতার জন্য রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের হাত থেকে ন্যাশনাল ব্রেভারি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে পরিকূল। সেদিন চা চক্রে দেখা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও। পরিকূলকে নিয়ে ট্যুইট করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ট্যুইটে লিখেছিলেন, “Youngsters like Parikul Bhardwaj are setting an example of leadership and selfless service towards society. As a student volunteer, she played a crucial role in saving the lives of pilgrims during the Kedarnath Yatra. Delighted to meet Parikul and my best wishes to her!" 'অধিক উচ্চতায় কর্মরত ভারতের সর্বকনিষ্ঠ সমাজসেবী' হিসেবে পরিকূলকে স্বীকৃতি দিয়েছে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ড। তবে এত সম্মান পেয়েও, দু'টি প্রাণ বাঁচিয়েও পরিকূল ভরদ্বাজ নির্বিকার। পরিকূল বলে, ঠিক সময়ে সামান্য একটা জলের বোতল পেয়ে, একটু খাবার পেয়ে কিংবা তার দেওয়া ওষুধ খেয়ে সুস্থ হয়ে ওঠার পর তীর্থযাত্রীদের মুখে যে অভিব্যক্তি ফুটে ওঠে, সেটাই তার কাজের আসল পুরস্কার। না, বাবা মায়ের মতো চিকিৎসক হতে চায় না পরিকূল। সে আইএএস অফিসার হতে চায়। বড় হয়ে সে পাহাড়ে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ও মাউন্টেন মেডিসিনের ওপর একটি ট্রেনিং সেন্টার তৈরি করতে চায়। যে ট্রেনিং সেন্টারে সব ধরণের বিপদ থেকে উদ্ধার করার ট্রেনিং দেওয়া হবে পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষকে। তাই মাত্র তেরো বছরেই পরিকূল ভরদ্বাজ ভারতের  নবীন প্রজন্মের কাছে আজ অনুপ্রেরণা। পরিকূল প্রমাণ করেছে সমাজসেবার কোনও বয়েস হয় না। দরকার শুধু ইচ্ছা এবং ইস্পাত কঠিন একটা মন।

```