বিশ্ববাজারের দামের সঙ্গে মিল রেখে যদি ভারতেও জ্বালানির দাম ঠিক করা হত, তাহলে এখন পেট্রলের দাম হত প্রায় ১১৩ টাকা প্রতি লিটার এবং ডিজেলের দাম ১২৩ টাকা প্রতি লিটার হওয়ার কথা। অথচ দেশে এখন পেট্রল বিক্রি হচ্ছে সাধারণত ৯৪–১০৫ টাকায় এবং ডিজেল ৮৭–৯০ টাকায়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 15 April 2026 13:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান যুদ্ধের (Iran War) জেরে যখন দুনিয়ার বহু দেশে জ্বালানির দাম (Fuel Price) লাগামছাড়া, কিছু দেশে সরকার নাগরিকদের হাঁটতে বা পাবলিক ট্রান্সপোর্টে অফিস যেতে বলছে, তখন ভারতের ছবিটা যেন পুরো অন্যরকম। ভারতীয়রা এখনও পর্যন্ত এই মূল্যবৃদ্ধির (Oil Price Hike) আঘাত থেকে বেশ খানিকটা সুরক্ষিত। কিন্তু এই শান্তির আড়ালে প্রতিদিন রক্তক্ষরণ চলছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলোর। ক্রেতাদের উপর বাড়তি চাপ না ফেলতে গিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা লোকসান করছে নিজেদের।
ভারতে পেট্রল ও ডিজেলের দাম (Petrol Diesel Price) দীর্ঘদিন ধরে প্রায় স্থির। শুধু প্রিমিয়াম ফুয়েলের দাম (Premium Fuel Price) কিছুটা বাড়ানো হলেও সাধারণ পেট্রোল-ডিজেলের দাম তেমন নড়েনি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ভারত জ্বালানির ব্যাপারে আমদানি-নির্ভর দেশ। দেশের মোট চাহিদার তুলনায় খুবই কম অংশ নিজ দেশে উৎপাদিত হয়। তবু আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার পরও দেশের পাম্পে তার প্রতিফলন তেমন দেখা যাচ্ছে না।
এর কারণ, রাষ্ট্রায়ত্ত তিন তেল বিপণন সংস্থা-
এদেরই কাঁধে পড়ছে এই বাড়তি চাপ।
বিশ্ববাজারের দামের সঙ্গে মিল রেখে যদি ভারতেও জ্বালানির দাম ঠিক করা হত, তাহলে এখন পেট্রলের দাম হত প্রায় ১১৩ টাকা প্রতি লিটার এবং ডিজেলের দাম ১২৩ টাকা প্রতি লিটার হওয়ার কথা। অথচ দেশে এখন পেট্রল বিক্রি হচ্ছে সাধারণত ৯৪–১০৫ টাকায় এবং ডিজেল ৮৭–৯০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি লিটারে পেট্রলে প্রায় ১৮ টাকা আর ডিজেলে প্রায় ৩৫ টাকার ক্ষতি গুণছে কোম্পানিগুলো।
শুধু কোম্পানিগুলোই নয়, কেন্দ্রীয় সরকারও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কারণ জ্বালানির দাম বাড়লে কেন্দ্রের রাজস্ব বাড়ে, আর দাম না বাড়ানোর ফলে সেই উপার্জনও কমে যাচ্ছে। সরকারের তরফ থেকেও শুল্ক কমিয়ে সাধারণ মানুষকে রেহাই দেওয়া হয়েছে, যা মোট ক্ষতির একটা বড় অংশ।
শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের এই ১,৬০০ কোটি টাকার লোকসান আগামী সময়ে তেল কোম্পানিগুলিকে আর্থিকভাবে বড় ধাক্কা দেবে। তবে লোকসান সত্ত্বেও পাম্পের দাম না বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতেই আপাতত নীতি বদলানোর কোনও ইঙ্গিত নেই।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট যখন নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে, ভারতের তেল বাজার স্থিতিশীল দেখালেও এর পেছনে লুকিয়ে আছে তীব্র আর্থিক চাপ- যা শেষ পর্যন্ত কতদিন টেকসই হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।