.webp)
আর জি কর কাণ্ড নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি
শেষ আপডেট: 20 August 2024 13:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর জি কর হাসপাতালে ডাক্তার-ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় দেশের ডাক্তারদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন। মঙ্গলবার সকালে এই মামলার শুনানির শুরুতেই প্রধান বিচারপতি বলেন, এই ঘটনাটি মাত্র একটি হাসপাতালে নির্দিষ্ট একটি ধর্ষণের বিষয় আর নেই। দেশজুড়ে তামাম ডাক্তারদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত ব্যবস্থাগত সম্পর্ক জড়িয়ে গিয়েছে।
সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং মনোজ মিশ্রর বেঞ্চে এদিন এই শুনানি হয়। প্রধান বিচারপতি এদিন কড়া সুরে বলেন, প্রিন্সিপাল কী করছিলেন? এফআইআর করা হয়নি কেন! বাবা-মায়ের হাতে মৃতার দেহ তুলে দিতে এত দেরি হল কেন? পুলিশ কী করছিল, গুরুতর অপরাধ হয়েছে। হাসপাতালের মতো জায়গায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে সবাই কী করছিল, প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়। কী করে হাসপাতাল ভাঙচুর করতে দুষ্কৃতীরা ঢুকল। সর্বোপরি তিনি এই ঘটনাতেও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, প্রিন্সিপাল আর জি কর থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরে কী করে তাঁকে অন্য কলেজে পুনর্বহাল করা হয়!
আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে শীর্ষ আদালত। বলেছে, আমরা চাই তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে সিবিআই আমাদের অবহিত করুক। সর্বোচ্চ আদালত আরও জানায়, আমরা একটি ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স গঠন করছি। আমরা চাই এই টাস্ক ফোর্স সুপারিশ করবে। দেশের প্রবীণ ও নবীন ডাক্তারদের জন্য গোটা দেশে সার্বিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মনীতি রূপায়ণের পরামর্শ দেবে এই কমিটি।
বিচারপতি পারদিওয়ালা জানতে চান, প্রথম কে এফআইআর করেছিলেন? কোন সময়ে এফআইআর হয়েছে? কপিল সিবাল জবাব দেন প্রথমে মৃতার বাবা, পরে হাসপাতালের ভাইস প্রিন্সিপাল লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পারদিওয়ালা ফিরতি প্রশ্ন করেন, কার অভিযোগ প্রথমে হয়েছিল? সিবাল বলেন, বাবার, রাত পৌনে ১২টায়। প্রধান বিচারপতির পালটা প্রশ্ন, শেষকৃত্যের জন্য কটার সময় দেহ তুলে দেওয়া হয়? কোঁসুলি বলেন, রাত সাড়ে ৮টায়। তখনই প্রধান বিচারপতি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, দেহ পরিবারের হাতে দেওয়ার তিন ঘণ্টা পর এফআইআর করা হয়েছে!
প্রধান বিচারপতি আরও জানতে চান, আর জি কর হাসপাতালের প্রিন্সিপালকে কি সাসপেন্ড করা হয়েছে? জবাবে রাজ্যের তরফে কৌঁসুলি কপিল সিবাল বলেন, তিনি ছুটিতে আছেন। সলিসিটর জেনারেল আবেদন করে বলেন, আদালতে যা বলা হচ্ছে তা যেন রাজ্যের কৌঁসুলি সিবিআইকে জানিয়ে দেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, যারা ভাঙচুর করেছে তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা হয়েছে? সিবালের জবাব ৩৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ৫০টি এফআইআর হয়েছে।
সঙ্গে সঙ্গে বিস্মিত সলিসিটর জেনারেল বলেন, ৫০টি এফআইআর? এটা তদন্ত চলছে নাকি কৌশল অবলম্বন করা চলছে। আমরা কেবল জানতে চাই ব্যবস্থা কী নেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি জানান, এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ২২ অগস্ট। ওইদিন পরিস্থিতির উপর নজরদারির জন্য ডাকা হবে সকল পক্ষকে। বিস্তারিত শুনানি শুরু হবে ২৭ অগস্ট।