
শেষ আপডেট: 17 February 2025 16:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটক কংগ্রেসে বিবাদ চরমে উঠেছে। একদিকে, মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াকে সরাতে চাইছেন উপ মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার। পাল্টা সিদ্দারামাইয়ার অনুগামীরা শিবকুমারকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে সরাতে তৎপর হয়ে উঠেছে। বিবাদ এতটাই যে হাইকমান্ডের নির্দেশ উপেক্ষা করে দুই নেতার অনুগামীরা আলাদা বৈঠক, সভা করে চলেছে।
বিবাদের সুত্রপাত মুখ্যমন্ত্রী পদে সিদ্দারামাইয়ার আড়াই বছর পূর্তি। শিবকুমার শিবিরের দাবি, সিদ্দারামাইয়া মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সময়ই কথা হয়েছিল তিনি আড়াই বছর পর দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন। মুখ্যমন্ত্রী হবেন শিবকুমার। কিন্তু তিনি কথা রাখছেন না।
পাল্টা সিদ্দারামাইয়ার অনুগামীরা শিবকুমারকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে সরাতে তৎপর। তাদের বক্তব্য, কংগ্রেসের নীতি হল, এক ব্যক্তি এক পদ। শিবকুমার উপ মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি দুটি পদে আছেন।
সিদ্দারামাইয়াকে মুখ্যমন্ত্রী করা নিয়ে গোড়াতেই বিরোধ ছিল কংগ্রেস হাইকমান্ডের মধ্যেও। রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গেরা শিবকুমারকে মুখ্যমন্ত্রী করার পক্ষপাতী ছিলেন। অতীতে একাধিক সংকটে দলের মুখ রক্ষা করার পুরস্কার হিসাবে শিবকুমারকে মুখ্যমন্ত্রী করতে চেয়েছিলেন রাহুল। আশ্চর্যের হল, বেঁকে বসেন সনিয়া গান্ধী। তিনি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াকেই ফের মুখ্যমন্ত্রী করতে চাপ দেন। প্রবীণ নেত্রীর প্রস্তাবে সায় দেন বাকিরা।
সিদ্দারামাইয়াকে মুখ্যমন্ত্রী করা হলে বিদ্রোহে সাময়িক বিরতি দেন শিবকুমার। কিন্তু মাস ছয় পর থেকেই অশান্তির সুত্রপাত হয়। ক্রমে তা মাত্রা ছাড়িয়েছে।
এখন মুখ্যমন্ত্রী ও উপ মুখ্যমন্ত্রীর মুখ দেখাদেখি বন্ধ। দুই নেতার শিবির আলাদা বৈঠক করায় বিরোধ নয়া মাত্রা পেয়েছে। শিবকুমার শিবিরের বক্তব্য, সিদ্দারামাইয়া মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়ার বিনিময়ে ঘনিষ্ঠ কাউকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি করতে চান।
শিবকুমার শিবিরের আশঙ্কা, সিদ্দারামাইয়া গোটা কর্নাটক কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে চাইছেন। জমি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ানোর পর তিনি এই বিষয়ে আরও মরিয়া হয়ে উঠেছেন।