
শেষ আপডেট: 24 February 2024 18:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোট মিটতেই বদলে যাবে দেশের অপরাধ দমন আইন। ১ জুলাই থেকে চালু হতে যাচ্ছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা এবং ভারতীয় সাক্ষ্য আইন। ফলে ওইদিন থেকে বাতিল হয়ে যাবে ব্রিটিশ আমলে চালু ভারতীয় দণ্ডবিধি, ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধি এবং ভারতীয় সাক্ষ্য আইন। শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে এই খবর জানানো হয়েছে।
যে কোনও দেশেই সংবিধান, আইনকে সময়োপযোগী করা স্বাভাবিক বিষয়। ভারতের সংবিধান এখনও পর্যন্ত ১২৭ বার সংশোধন করা হয়েছে। তবে অপরাধ দমন সংক্রান্ত এই তিন আইনের যে আমূল পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে, তা নজিরবিহীন।
গত ২২ ডিসেম্বর সংসদ এই সংক্রান্ত বিল তিনটি ধ্বনী ভোটে অনুমোদন করে। ২৫ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাতে সই করেন। ফলে ওইদিন থেকেই নতুন আইনের সূচনা হয়। ১ জুলাই থেকে তা গোটা দেশে চালু হয়ে যাবে। তার আগে থানা-পুলিশ-আইন-আদালতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে সরকার। অনেকেই মনে করছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তও সঠিক নয়। আইন তিনটি চালু করার আগে দীর্ঘ সময় ধরে প্রশিক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচার চালানো উচিৎ ছিল।
ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, নতুন আইনে নাগরিকের অনেক অধিকার খর্ব হতে চলেছে। যেমন নানা ক্ষেত্র অপরাধীদের জামিন পাওয়ার সুযোগ কমে যাবে। তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ-সহ তদন্তকারী সংস্থাগুলি আরও বেশিদিন অপরাধীদের নিজেদের হেফাজতে রাখতে পারবে। অন্য তদন্তকারীদের মতো পুলিশও এবার অভিযুক্তের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারবে। বাড়ানো হয়েছে, মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর সাজা প্রয়োগের পরিধি।
বিরোধীরা প্রথম থেকেই এই আইন তিনটির বিরোধিতা করে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিল তিনটির বিরোধিতা করে সরকাররে ধীরে চলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, সংশ্লিষ্ট সব মহলের বক্তব্য শোনা হোক। কিন্তু কেন্দ্র তাতে কর্ণপাত করেনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিল তিনটি পেশ করে দ্রুত পাশ করিয়ে নিয়েছেন সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে।
নয়া আইনে সরকারের সমালোচনাকে অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের অবমাননা বলে দেখানোর চেষ্টা হয়েছে বলে বিরোধী দল ও মানবাধিকার রক্ষার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলি অভিযোগ তুলেছে। যেমন বর্তমানে চালু ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪এ ধারাটি সুপ্রিম কোর্ট আড়াই বছর আগে প্রয়োগ স্থগিত করে দিয়েছিল। সর্বোচ্চ আদালত প্রশ্ন তুলেছিল, ব্রিটিশ আমলে চালু এমন একটি ধারা যা প্রয়োগ করে বিদেশি সরকার মহাত্মা গান্ধী, বাল গঙ্গাধর তিলকের মতো মানুষদের বছরের পর বছর জেলে আটকে রাখত, সেই ধারা কেন স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরও বহাল আছে? সর্বোচ্চ আদালত ধারাটি প্রয়োগে নিষেধাজ্ঞা জারি করলে সরকার সেটি সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দেয়। এখন দেখা যাচ্ছে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতায় ধারাটি আরও কঠোর করা হয়েছে। শুধু ‘রাজদ্রোহ’র পরিবর্তে সেখানে ‘দেশদ্রোহ’ শব্দটি যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ন্যূনতম সাজার মেয়াদ তিন বছরের পরিবর্তে বৃদ্ধি করে সাত বছর করা হয়েছে।